ইরানে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের প্রতি ফের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমর্থন ঘোষণা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i75519-ইরানে_নৈরাজ্য_সৃষ্টিকারীদের_প্রতি_ফের_মার্কিন_পররাষ্ট্রমন্ত্রীর_সমর্থন_ঘোষণা
ইরানে সম্প্রতি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে ব্যাপক নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের প্রতি সমর্থন দিয়ে ওয়াশিংটন ভেবেছিল এবার ইরানের ব্যাপারে অবৈধ লক্ষ্য অর্জনে তারা সক্ষম হবে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ২৭, ২০১৯ ১৬:০২ Asia/Dhaka
  • মাইক পম্পেও
    মাইক পম্পেও

ইরানে সম্প্রতি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে ব্যাপক নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের প্রতি সমর্থন দিয়ে ওয়াশিংটন ভেবেছিল এবার ইরানের ব্যাপারে অবৈধ লক্ষ্য অর্জনে তারা সক্ষম হবে।

তেলের মূল্য বৃদ্ধি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে গোলযোগ শুরুর পর মার্কিন কর্মকর্তারা এ পর্যন্ত বহুবার নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের প্রতি সমর্থন দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আরো বহু কর্মকর্তা ইরানে জ্বালাও-পোড়াও ও ভাঙচুরকারীদের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। সর্বশেষ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গতকাল মঙ্গলবার আবারো ইরানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে বলেছেন, "তাদের এটা জেনে রাখা উচিত আমেরিকা তাদের পাশে রয়েছে।" পম্পেও ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "আমেরিকা তোমাদের শব্দ শুনতে পাচ্ছে এবং তোমাদের প্রতি আমাদের সমর্থন বজায় থাকবে।" মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এও প্রতিশ্রুতি দেন যে, মানবাধিকার ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করা হবে। তিনি বলেন, তার ভাষায় ইরানকে একটি স্বাভাবিক দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এসব বক্তব্য থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান বিদ্বেষী আচরণের বিষয়টি উপলব্ধি করা যায় এবং তারা ইরানের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতাগুলো পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। গত ১৫ নভেম্বর থেকে ইরানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে একদল ব্যক্তি ব্যাপক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালায়। আমেরিকা এ পরিস্থিতিকে ইরানে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। আমেরিকা নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের প্রতি শুধু সমর্থন জানিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি একইসঙ্গে ইরান সরকার যাতে সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয় সেজন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে।

ইরানে সাম্প্রতিক গোলযোগ সৃষ্টির পেছনে আমেরিকার হাত থাকারও বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারি ও বেসরকারী বহু প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো থেকে বোঝা যায়, এসব কাজ কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। ইরানবিরোধী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসন শুধু  যে নাশকতাকারীদের প্রতি সমর্থন দিয়েছে তাই নয় একইসঙ্গে ইরান সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। ইরান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি ব্রায়ান হুকও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি ইরানের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সন্তুষ্টির কথা জানান।

মার্কিন সরকার বিভিন্ন অজুহাতে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে তেহরানের নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও'র উত্থাপিত ১২টি দাবি মেনে নিতে তেহরানকে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। তারা একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ দিয়ে রেখেছে অন্যদিকে ইরানের জনগণের শুভাকাঙ্ক্ষী সাজার ভান করছে।

এদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা আমেরিকার অশুভ উদ্দেশ্যের বিষয়টি ভালভাবেই অবহিত আছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী যেমনটি বলেছে, সহিংসতা সৃষ্টিকারীরা হচ্ছে ইরানের শত্রু এবং এ ধরণের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সাধারণ জনগণের পক্ষে সম্ভব নয়। #  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৭