ইসরাইলের দখলদারিত্বের অবসানে ব্যবস্থা নিন: মুসলিম এবং বিশ্ব সমাজকে ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i79875-ইসরাইলের_দখলদারিত্বের_অবসানে_ব্যবস্থা_নিন_মুসলিম_এবং_বিশ্ব_সমাজকে_ইরান
দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের প্রতি আবারো জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইসরাইলের গত কয়েক দশকের দখলদারিত্বের অবসানের লক্ষ্যে অবিলম্বে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য মুসলিম জাতি এবং আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মে ১৪, ২০২০ ১১:৩৩ Asia/Dhaka
  • ইসরাইলের দখলদারিত্বের অবসানে ব্যবস্থা নিন: মুসলিম এবং বিশ্ব সমাজকে ইরান

দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের প্রতি আবারো জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইসরাইলের গত কয়েক দশকের দখলদারিত্বের অবসানের লক্ষ্যে অবিলম্বে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য মুসলিম জাতি এবং আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার আগামীকাল ১৫ মে অনুষ্ঠেয় ফিলিস্তিনে কুখ্যাত নাকাবা দিবস বা বিপর্যয় দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে আহ্বান এ আহ্বান জানিয়েছে। ১৯৪৮ সালের এই দিনে ইহুদিবাদী ইসরাইল হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "৭২ বছর আগে এই কালো দিনে ইহুদিবাদী অভিবাসীরা তাদের বর্ণবাদী বিশ্বাস এবং ধারণার অজুহাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নির্মম এবং বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়েছিল। এরপর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের মাতৃভূমি থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়েও দিয়েছিল অনুপ্রবেশকারী ইহুদি অভিবাসীরা। তাদের নির্যাতন এবং হত্যাযজ্ঞ থেকে পুরুষ, নারী কিশোর কিশোরী বৃদ্ধা এমন কি নিষ্পাপ শিশুরাও রেহায় পায় নি। আর এভাবেই ফিলিস্তিনসহ পুরো পশ্চিম এশিয়া ইহুদিবাদী বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল।"

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাকাবা দিবসকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের সত্যিকারের মালিক ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের অবৈধ বসতি নির্মাণ, ফিলিস্তিনি জনগণকে বাস্তচ্যুত করা, মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা মসজিদের মর্যাদা বিনষ্ট করা, গাজায় অমানবিক অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং গোলান মালভূমির একটি অংশকে জবরদখল করে রাখা-এসব অপরাধযজ্ঞের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নির্যাতন এবং নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।   

এছাড়া, মার্কিন সমর্থনের আসকারা পেয়ে ফিলিস্তিনের আরো ভূমি সংযুক্তিকরণ করার ইসরাইলের তৎপরতার নিন্দা জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফিলিস্তিনি সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে এবং সেইসঙ্গে চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত শান্তি চুক্তিকে অপমানজনক আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের নির্যাতনের মুখে ১৯৪৮ সালে নিজ ভূমি ছেড়ে পালাচ্ছে ফিলিস্তিনি জনগণ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফিলিস্তিন ইস্যুকে মুসলিম জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং সংগ্রামের প্রতি ইরানের অপরিবর্তিত নীতি অব্যাহত থাকবে। যদিও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের কিছু দেশে নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।  

বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের কবল থেকে তাদের ভূমি মুক্ত করতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা, মুসলিম জাতি এবং সরকারসহ অন্যান্য স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।