প্রতিশ্রুতি না মেনেও পরমাণু সমঝোতার প্রতি ফের সমর্থনের দাবি করল ইউরোপ
যুক্তরাষ্ট্র ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয়রা এটিকে রক্ষা এবং তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলেও এখনো তারা এই চুক্তির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার দাবি করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে এক টুইট বার্তায় বলেছেন, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফের সঙ্গে সাক্ষাতে ইরান ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার এবং পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। জোসেফ বোরেল আরো বলেছেন সব পক্ষের মাধ্যমে পরমাণুর সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য তিনি সমন্বয়ের চেষ্টা করবেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জোসেফ বোরেল এমন সময় পরমাণু সমঝোতার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন যখন ২০১৮ সালের ৮ মে পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে ইউরোপীয়রা ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কোন সহযোগিতা তো করেনি বরং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি ইরানবিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করে চলেছে।
ধারণা করা হচ্ছে ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য দেশটির সংসদ মজলিসে শুরা ইসলামি পরমাণু বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করার পর জোসেফ বোরেল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার সঙ্গে টেলিফোন আলাপে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের জাতীয় সংসদ গতকাল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ২০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন ও মজুদ অব্যাহত রাখতে আইন অনুমোদন করেছে। এতে বলা হয়েছে, জাতীয় আণবিক শক্তি সংস্থাকে প্রতিবছর চাহিদা মেটানোর পর ২০ মাত্রার ১২০ কেজি ইউরেনিয়াম দেশে মজুদ করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরণের বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া বলা হয়েছে, পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলো যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি মেনে না চলে এবং ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্য রপ্তানি ও বিদেশ থেকে অর্থ দেশে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সৃষ্ট বাধা দূর না করে তাহলে এই আইন পাসের একমাসের মধ্যে পরমাণু ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সব প্রটোকল বাস্তবায়ন থেকে সরে আসতে হবে।
বাস্তবতা হচ্ছে মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেনি এবং কেবল লোক দেখানো উপস্থিতি বজায় রেখেছে। এমনকি তাদের ভাবখানা এমন যে ইরানের কাছে তাদের অনেক কিছু পাওনা রয়েছে। চীনের একজন শীর্ষ গবেষক জিন লিয়াং চিয়াং বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি ছিল কিন্তু মার্কিন সরকারে এ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাফল্যকে ম্লান করে দিয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাও ধ্বংস হয়ে গেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় ইরানের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো ক্ষমতা তাদের নেই। মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তারা নিজেদের অক্ষমতা প্রমাণ করেছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২