‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলনে আঞ্চলিক সহযোগিতা বিস্তারে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন জারিফ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ তাজিকিস্তানের রাজধানী দোশাম্বেতে 'হার্ট অব এশিয়া' সম্মেলনে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিস্তারের বিষয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তিনি এ সম্মেলনে আফগানিস্তানের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ওই দেশটির শান্তি প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখার উপায় নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
যুদ্ধ এবং নিরাপত্তাহীনতা সমগ্র অঞ্চলের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। এ কারণে নিরাপত্তা রক্ষায় আঞ্চলিক প্রভাবশালী সব দেশের উচিত এ ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখা। এ ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ, মাদক চোরাচালান ও যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ হচ্ছে বিদেশীদের ধ্বংসাত্মক হস্তক্ষেপ এবং আফগানিস্তানের ঘটনাবলী এর অন্যতম দৃষ্টান্ত। তাই অবশ্যই বাইরের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। আর দ্বিতীয়ত, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজন এ অঞ্চলের সব দেশের আন্তরিক সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জাওয়াদ জারিফ তাজিকিস্তানে চলমান 'হার্ট অব এশিয়া' সম্মেলনের অবকাশে সিকা'র নির্বাহী সম্পাদক কাইরাত সারিবাই'র সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, বিশ্বব্যবস্থায় পশ্চিমা একাধিপত্যবাদের যুগ শেষ হয়ে গেছে। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বর্তমান সমীকরণে এশিয় অঞ্চলের দেশগুলোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।
বাস্তবতা হচ্ছে, বাইরের কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল থেকে এবং বাইরে থেকে নিরাপত্তা আমদানি করে এ অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। গত দুই দশকে আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থেকে প্রমাণিত হয়েছে এ অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসবাদ উৎখাত ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা তাদের মূল লক্ষ্য নয়। বরং মার্কিন সরকার আইএসসহ বিভিন্ন উগ্র সন্ত্রাসীদেরকে সমর্থন দেয়ার মাধ্যমে সমগ্র এ অঞ্চলে আতঙ্কজনক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র শুধু আফগানিস্তান নয় পশ্চিম এশিয়ার আরো অনেক দেশে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে যুদ্ধ ও সংকট চাপিয়ে দিয়েছে। খ্যাতনামা মার্কিন চিন্তাবিদ স্যামুয়েল হান্টিংটন ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাময়িকীতে এক নিবন্ধে লিখেছেন, বিশ্বের জনগণের মতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে স্বেচ্ছাচারী পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং সবার কাছে একমাত্র বিদেশি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তাহীনতা বর্তমানে ইরান, পাকিস্তান, ভারত, রাশিয়া, চীনসহ মধ্যএশিয়ার আরো অন্যান্য দেশের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ কারণে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অঞ্চলে বাইরের হস্তক্ষেপকে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছেন। তাই ইরান আফগানিস্তানের সরকার ও জনগণকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নানা ফোরামে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘও বহুবার আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।
যাইহোক, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলন এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সকলের প্রত্যাশা।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩০