'রেডিও তেহরান আমাদেরকে সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে'
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i122212-'রেডিও_তেহরান_আমাদেরকে_সবসময়_অনুপ্রেরণা_জুগিয়ে_যাচ্ছে'
‘আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ'-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন ৯ জন। বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো পার্সটুডেতে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। আজ প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের নওগাঁ সদরের সোর্স অফ নলেজ ক্লাবের সভাপতি খোন্দকার রফিকুল ইসলামের লেখা
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ২০, ২০২৩ ১৬:১৫ Asia/Dhaka
  • 'রেডিও তেহরান আমাদেরকে সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে'

‘আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ'-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন ৯ জন। বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো পার্সটুডেতে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। আজ প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের নওগাঁ সদরের সোর্স অফ নলেজ ক্লাবের সভাপতি খোন্দকার রফিকুল ইসলামের লেখা

রেডিও তেহরান আমার অতি পছন্দের একটি আন্তর্জাতিক বেতার। বেশ কিছুদিন আগের কথা- তখন আমি রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগে যেমন চিঠি লিখতাম, ঠিক একইভাবে তাদের কাছে সমানতালে রিসিপশন রিপোর্টও পাঠাতাম। আমি এখন স্কুল শিক্ষক কিন্তু তখন শুধুমাত্র টিউশনি করাতাম নিজ বাড়িতেই। অনেক ছেলে মেয়েদের পড়াতাম। তাদের মধ্যেও অনেকেই আমি রেডিও তেহরানে চিঠিপত্র লিখতে উৎসাহিত করতাম, কাউকে কাউকে আমি নিজ হাতে চিঠি লিখে তিন টাকার হলুদ ডাক বিভাগের খামে করে ঢাকায় তেহরানের পোস্ট বক্স নং ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতাম।

এখানে একটি কথা বলে রাখি- তখনকার সে সময়গুলোতে তেহরান বেতারে চিঠি লিখলেই পাওয়া যেত- জম জম, মাহযুবা, ইকো অফ ইসলাম-এর মত নামকরা রঙিন মাসিক পত্রিকাগুলো। আমার সংগ্রহে তার অনেকগুলো পত্রিকা আজও অতি যত্ন সহকারে আলমারিতে রেখে। বলা যায়, আমার যত্নে থাকা রেডিও তেহরান থেকে পাওয়া এ এক অনন্য ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক। আমি আগে রেডিও তেহরান ইংরেজি বিভাগেও রিসিপশন রিপোর্ট পাঠাতাম।

আমার সংগ্রহে আছে, রেডিও তেহরান থেকে পাওয়া কিছু স্মারক উপহার- ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর পোস্টার, কিছু স্টিকার, সে সময়ের কিছু বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের রিসেপশন রিপোর্টের ফরম, ২-৩টি সিডি প্লেট, একটি কোরআন শরীফ, ঢাকার ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক বিভাগ থেকে নিয়মিত পাঠানো 'নিউজ লেটার পত্রিকার অনেকগুলো কপি ইত্যাদি। আগে আমরা হাতে লিখে চিঠিগুলো ডাকযোগে পাঠাতাম। আমার মতে, তখন অনেক বেশি মজা পেতাম। আর আজ ইমেইলে চিঠি পাঠাই। কিন্তু কেন যেন মনে হয়, আজ সেই আগের মত মনে আনন্দ বা আগ্রহ তেমনটা আর পাই না।

আগে প্রতিদিন রাতে বেতারের সামনে বসে তেহরানের প্রোগ্রাম শুনতাম। আহ! কত যে মজা পেতাম, কতই না ভালো লাগতো। অনেককে সাথে নিয়ে সেই মধুর দিনগুলোর বেতার শোনার স্মৃতি মানসপটে ভেসে উঠলেই মনে হতো, আর কি ফিরে যাওয়া যাবে, সেই কোলাহলময় দিনগুলোতে? জানি, সেটা সম্ভব নহে। কারণ সময় তো বহমান স্রোতের মত শুধু চলছেই, পিছনে কভু ফিরবে না। বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক আন্দোলনের সঠিক, নিরপেক্ষ ও তথ্যবহুল খবরের জন্য আমরা একনিবিষ্টভাবে রেডিও তেহরানের উপরই নির্ভর করে থাকতাম।

আমরা মুসলিম, আমরা আমাদের আস্থার নির্ভরযোগ্য প্রতীক মনে করি এই রেডিও তেহরানকে। রেডিও তেহরান সব সময় আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে। আশার সঞ্চার করছে আমাদের মননে। আজ এই বিশ্বায়নের যুগেও রেডিও তেহরানের ভূমিকাকে কিছুতেই ছোট করে দেখা যায় না। আজ তেহরান বেতারের বাংলা ওয়েব সাইট, বাংলা ফেসবুক পেজ, এদের লাইভ সম্প্রচার সবকিছুই নতুন নতুন দিগন্তের সূচনা করছে শ্রোতাদের সামনে বলে দৃঢভাবে বিশ্বাস করি। এখন বাংলাদেশে রেডিও তেহরান শ্রোতা ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদের মাধ্যমেও রেডিও তেহরান সম্পর্কে মাঝে মধ্যে অনেক কিছু বিষয়ে অবগত হতে পারছি। রেডিও তেহরান এই প্রচার কৌশলেরও প্রশংসা করছি। আমার মতে এদেশে আরো কিছু রেডিও তেহরান শ্রোতা ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

পরিশেষে বলব, রেডিও তেহরান আগে যেমন শ্রোতাবান্ধব বেতার হিসাবে শ্রোতাদের মনের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছিল, এখনও সেটা বজায় রেখেছে। আগামিতেও ইনশা আল্লাহ রেডিও তেহরান আরো জনপ্রিয় ও পরিপূর্ণ শ্রোতা বান্ধব বেতার হিসাবে শ্রোতাদের চাওয়া পাওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবে। আমিন।

 

খোন্দকার রফিকুল ইসলাম

সভাপতি, সোর্স অফ নলেজ ক্লাব,

সাহাপুর কে পাড়া, সান্তাহার, নওগাঁ সদর, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০