ইসরাইলি নেতৃবৃন্দ গাজায় স্থল হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে আছে
ইসরাইল কেন গাজায় স্থল হামলা চালানোর সাহস করছে না?
ইহুদিবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত আল-আকসার তুফান নামক নজিরবিহীন হামলায় তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আঘাত পাওয়ার পর গত ১৭ দিনেও হামাসের সামরিক অবস্থানের ক্ষয়ক্ষতি করার মত কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি।
দখলদার ইসরাইলের সন্ত্রাসী সশস্ত্র বাহিনী যা করতে পেরেছে তা হল কেবলই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গণহত্যা জোরদার করা এবং মসজিদ, হাসপাতাল ও স্কুলসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলো যত বেশি সম্ভব ধ্বংস করা। ইসরাইলের নির্বিচার বোমা হামলায় প্রায় দুই হাজার শিশু ও এক হাজার নারীসহ শহীদ হয়েছে অন্তত ৫ হাজার অসহায় বেসামরিক ফিলিস্তিনি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল (সোমবার) জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫,০৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বিশ্বব্যাপী আগ্রাসন বন্ধ করার জনদাবী বা যুদ্ধ-বিরতি করতে মুসলিম দেশগুলোর সরকারি দাবি উপেক্ষা করে ইসরাইল গাজায় স্থল-হামলা চালানোর তোড়জোর জোরদার করেছে বেশ কয়েকদিন থেকেই। ইসরাইল তার ভাষায় হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল বা নিশ্চিহ্ন করতে গাজা সীমান্তের কাছে প্রায় এক লাখ সেনা মোতায়েন করেছে। বহু ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে ইসরাইলি সেনারা গাজায় স্থল হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত বলেও দাবি করছে। কিন্তু ইসরাইল এখনও এ ধরনের হামলা শুরু করছে না আরও ভয়াবহ বিপর্যয় তথা হামাসের হাতে আরও ভয়াবহ মার খাওয়ার আশঙ্কায়।
ইসরাইলি নেতৃবৃন্দ গাজায় স্থল হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সরকারও গাজায় স্থল হামলা সহজ হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছে। আর গাজায় ইসরাইলি স্থল-অভিযান শুরু হলে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও করছে ইসরাইল। ফলে ইউক্রেন সংকটের কারণে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের শিকার পাশ্চাত্য আরও বেশি জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক সংকটের শিকার হতে পারে। মার্কিন সরকার ও ইউরোপ বা পাশ্চাত্য ইসরাইলের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থনের কথা উচ্চারণ করছে কেবল ঘরোয়া রাজনীতি বা নির্বাচনের ফলাফল ভালো করার আশায়। মার্কিন সরকার এরিমধ্যে ইরানকে অনুরোধ করেছে গাজার যুদ্ধ যেন ইরান নানা ফ্রন্টে ছড়িয়ে না দেয়।
গাজায় স্থল যুদ্ধ শুরু করার পর লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ যদি উত্তর দিক থেকে ইসরাইলে হামলা শুরু করে তাহলে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ করা ইসরাইলের জন্য বেশ কঠিন হবে বলে ইসরাইলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত। হামাসের হামলার মোকাবেলায় ব্যর্থতার কারণে এরই মধ্যে নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে ইসরাইলিরা তেল-আবিবে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। কয়েকজন ইসরাইলি মন্ত্রী পদত্যাগ করতে পারেন বলেও খবর শোনা যাচ্ছে।
এ অবস্থায় ইসরাইল সম্প্রতি প্রচার করেছে যে আবহাওয়া খারাপ থাকায় গাজায় স্থল হামলা শুরু করেনি ইসরাইল। অন্যদিকে খান ইউনিসসহ কোনো কোনো সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের প্রবেশের চেষ্টা হামাস রুখে দিয়েছে বলেও খবর এসেছে। ইসরাইলের এ ধরনের এক প্রচেষ্টায় কয়েকজন ইসরাইলি সেনা হতাহত ও অন্তত দশটি ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে বলেও খবর এসেছে। গাজায় হামাসের খনন করা গোপন সুড়ঙ্গ বা টানেলগুলো ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বলে মনে করা হচ্ছে। আর এইসব টানেল ইসরাইলি সেনাদের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে বলে ইসরাইল আতঙ্কিত। #