পুনর্গঠনের জন্য হামাসের কী কী ক্ষমতা আছে?
-
পুনর্গঠনের জন্য হামাসের সক্ষমতায় বিস্মিত ইসরাইলের বিভিন্ন মহল
পার্সটুডে- ফিলিস্তিনি ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) এর পুনর্গঠনের ক্ষমতা বা প্রতিরোধ শক্তি ফের গড়ে তোলার সক্ষমতার কথা স্বীকার করার ধারা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলি সূত্রগুলো আবারও স্বীকার করেছে যে তারা হামাসের এই ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হয়েছে।
ইসরাইল ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজা উপত্যকার উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে তারা গাজার জনগণের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন গণহত্যা চালায়। এছাড়াও, তারা গাজার অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে। পার্সটুডে জানিয়েছে, গাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করা।
এখন, ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর, গাজা উপত্যকায় হামাসের অবস্থান পুনরুদ্ধারের ক্ষমতার লক্ষণগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, এমনকি মিডিয়া এবং বিভিন্ন ইহুদিবাদী ব্যক্তিত্ব হামাসের ক্ষমতার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
ইসরাইলি সাংবাদিক এলমগ বুকার এক বিবৃতিতে বলেছেন: "হামাস কীভাবে ৭২ ঘন্টার মধ্যে নিজেকে পুনর্গঠন করতে এবং গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে তা দেখে অবাক লাগছে।" মনে হচ্ছে নিজেদের নিয়ে গল্প বলা বন্ধ করার সময় এসেছে, কারণ গাজা উপত্যকার উপর হামাসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
মাসজাফ নিরাপত্তা থিঙ্ক ট্যাঙ্কের গবেষক এবং ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত-এর প্রাক্তন সিনিয়র কর্মকর্তা মোশে ফেজলুবও এই প্রসঙ্গে বলেছেন: "যে কেউ হামাসকে পরাজিত করার দাবি করে, সে আসলে বিভ্রান্ত।" ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আমির ওভিও স্বীকার করেছেন যে "আমরা এমন একটি পরিস্থিতিতে আছি যেখানে হামাসের শক্তি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ইসরাইলি সেনাবাহিনী কর্তৃক হামাসকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়ার চেয়েও দ্রুতগতির।"
এর আগে, ইসরাইলি দৈনিক ইয়াদিওথ আহরোনোথ এক প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলেছিল যে বন্দি বিনিময়ের সময় হামাসের সামরিক কুচকাওয়াজের দৃশ্যগুলো থেকে এটা নিসন্দেহে বলা যায় যে ১৫ মাস ধরে যুদ্ধের পরও, হামাসকে এখনও গাজা উপত্যকায় একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়াদিওথ আহরোনোথ স্বীকার করেছে যে: "ফিলিস্তিনি ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ অংশ পরিচালনার জন্য তারা তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল: হামাস আন্দোলনের নিজেকে পুনর্গঠনের জন্য কী কী ক্ষমতা আছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে, আমাদের প্রথমে হামাসের জনসমর্থনের কথা উল্লেখ করতে হবে। কেননা যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এবং জনগণের দ্বারা ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানোর পর জনসমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। এই জনসমর্থনের ফলে হামাস আন্দোলন নতুন সদস্য সংগ্রহ করতে এবং যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক চ্যালেঞ্জ দ্রুত মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছিল। আরেকটি বিষয় হল গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরকে হারিয়েও হামাস দুর্বল হয়ে যায়নি। মুহাম্মদ সিনওয়ার হলেন নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়া নেতাদের মধ্যে একজন, যিনি তার ভাই ইয়াহিয়া সিনওয়ারের শাহাদাতের পর হামাসের সামরিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তিনি নতুন সদস্য নিয়োগেও ভূমিকা রেখেছিলেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে যে হামাস তার শক্তি পুনর্গঠন করছে এবং ইসরাইলের ব্যাপক আক্রমণ সত্ত্বেও যোদ্ধা সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে "ইয়াহিয়া সিনওয়ার" (যিনি ২০২৪ সালের অক্টোবরে শহীদ হন) এর ছোট ভাই "মোহাম্মদ সিনওয়ার" এর ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। হামাসের সক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাদের গাজা উপত্যকা পরিচালনা করার ক্ষমতা যা অন্য কোনও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর নেই।
এই প্রসঙ্গে, সংবাদ সূত্র জানিয়েছে যে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামনে হামাস ত্রাণ কনভয়এর ওপর হামলাকারী অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে ঠেকাতে সফল হয়েছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।