ইউরোপে বৈষম্যের প্রধান শিকার মুসলিম নারীরা: আল-আজহার অবজারভেটরি
https://parstoday.ir/bn/news/world-i155700-ইউরোপে_বৈষম্যের_প্রধান_শিকার_মুসলিম_নারীরা_আল_আজহার_অবজারভেটরি
পার্সটুডে-ইউরোপে মুসলিম নারীদের যে ক্ষতি হচ্ছে সে সম্পর্কে সতর্ক করেছে আল-আজহার অবজারভেটরি।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
জানুয়ারি ০১, ২০২৬ ১৮:৫১ Asia/Dhaka
  • ইউরোপে বৈষম্যের প্রধান শিকার মুসলিম নারীরা
    ইউরোপে বৈষম্যের প্রধান শিকার মুসলিম নারীরা

পার্সটুডে-ইউরোপে মুসলিম নারীদের যে ক্ষতি হচ্ছে সে সম্পর্কে সতর্ক করেছে আল-আজহার অবজারভেটরি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারী প্রতিবেদন প্রমাণ করে যে অনেক সদস্য রাষ্ট্রে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বর্ণগত হয়রানির অভিজ্ঞতা স্থিতিশীল এবং ক্রমবর্ধমান বিশেষ করে মুসলিম নারীরা তাদের ধর্মীয় পরিচয় ও পর্দার কারণে অন্যদের তুলনায় অপমান, চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং সামাজিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। ইকনার উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে আরও জানায়, আল-আজহার অবজারভেটরি ঘোষণা করেছে, ইউরোপে মুসলিম নারীরা বৈষম্যের সবচেয়ে বেশি শিকার হন।

আল-আজহার অবজারভার জোর দিয়ে বলেছে যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং রাজনৈতিক ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে গভীরভাবে প্রোথিত। বর্ণবাদ ইউরোপীয় মূল্যবোধের নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার অবক্ষয়েরই প্রকাশ। আল-আজহার অবজারভেটরি ইউরোপে 'পদ্ধতিগত বর্ণবাদ'-এর অস্তিত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং ইসলামোফোবিয়াকে অপরাধী করে-এমন বাধ্যতামূলক আইন গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪৭% মুসলিম সরাসরি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, যা ২০২৪ সালে ৩৯% ছিল।

ফিনল্যান্ডে শ্রমবাজারে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের সর্বোচ্চ হার রেকর্ড করা হয়েছে শতকরা ৬৩ ভাগ এবং অস্ট্রিয়ায় ঘৃণামূলক অপরাধের সংখ্যা ১,৫০০-তে পৌঁছেছে যা ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ।

প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে যে মুসলিম মহিলারা, বিশেষ করে যারা হিজাব পরেন, তারা শ্রমবাজার থেকে বৈষম্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যে দেখা গেছে যে ৩১ শতাংশ মুসলিম অভিবাসী সাধারণ বৈষম্যের কথা জানিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ৭৪.৮২ শতাংশ আবাসিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা জানিয়েছেন।

স্পেনের সরকারী তথ্য বিভাগ এই দাবি অস্বীকার করেছে যে মুসলিম অভিবাসীরা দেশের জন্য অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করে। তারা সামাজিক নিরাপত্তা রাজস্বের ১০ শতাংশ প্রদান করে এবং ব্যয়ের মাত্র ১ শতাংশ থেকে উপকৃত হয়।

ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞা নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে যুক্তরাজ্যে মুসলিম বিরোধী ঘটনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্রান্সে, ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে মসজিদে হামলা বেড়েছে। জার্মানিতে অভিবাসন নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত এবং ফিলিস্তিন-পন্থীদের বিক্ষোভ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ডেনমার্ক এবং অস্ট্রিয়াতেও সরকারী আলোচনায় বর্ণবাদ স্বাভাবিক করা হয়ে গেছে।#

পার্সটুডে/এনএম/১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন