ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বেড়াজালে আটকে আছে রোহিঙ্গাদের জীবন: এমএসএফ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i63777-ভোগান্তি_ও_স্বাস্থ্যঝুঁকির_বেড়াজালে_আটকে_আছে_রোহিঙ্গাদের_জীবন_এমএসএফ
আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) বা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স বলেছে, রোহিঙ্গাদের আইনি মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি, অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তৈরি ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন ইত্যাদির কারণে এখনো তাদের জীবন ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বেড়াজালে আটকে রয়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ২৫, ২০১৮ ১০:৩৫ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা
    বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) বা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স বলেছে, রোহিঙ্গাদের আইনি মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি, অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তৈরি ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন ইত্যাদির কারণে এখনো তাদের জীবন ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বেড়াজালে আটকে রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর পূর্তিতে এক বিবৃতিতে এমএসএফ জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত ‘শুদ্ধি অভিযান’-এর কারণে যে ভয়াবহতা ও ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়, এতে প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এই শরণার্থীরা পূর্ববর্তী সহিংসতা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ২ লাখ শরণার্থীর সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ৯ লাখ ১৯ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গত ১২ মাসে সংস্থাটির ১৯টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা মোবাইল ক্লিনিকে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অর্ধেকের বেশি রোগী সহিংসতাজনিত আঘাতের চিকিৎসা নিলেও, ক্যাম্পের ঘনবসতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তারা পরবর্তী সময় অসুস্থ হয়।

পাভলো কলোভস

এমএসএফের বাংলাদেশ অফিসের হেড অব মিশন পাভলো কলোভস বলেন, এখনো ক্যাম্পের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হচ্ছে ডায়রিয়া। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের জন্য যে অবকাঠামো প্রয়োজন, তা এখনো অনুপস্থিত। এর ফলে মানুষের সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স-এর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, শরণার্থীদের জন্য অসামান্য উদার মানসিকতার পরিচয় দিয়ে সীমানা খুলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ১২ মাস পরও রোহিঙ্গাদের ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই অঞ্চলের দেশগুলো রোহিঙ্গাদের কোনো রকম প্রাতিষ্ঠানিক আইনি মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

পাভলো কলোভস বলেন, ‘আমরা এমন এক অবস্থার মধ্যে আছি যেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠিক এই নামে চিহ্নিত করাও কঠিন। শরণার্থী হিসেবে রোহিঙ্গাদের যে আইনি অধিকার আছে, তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানো অথবা তাদের কোনো আইনি মর্যাদা না দেয়ার মাধ্যমে এই ইস্যুতে কাজ করে যাওয়া বিভিন্ন দেশ ও অন্যান্য সংস্থা রোহিঙ্গাদের খুবই নাজুক পরিস্থিতিতে রেখেছে।’

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

সংস্থাটি বলছে, নিপীড়নই রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণ। মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে না পারার মাধ্যমে দাতা সংস্থাগুলো ও অন্যান্য সরকার তাদের প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে জাতিসংঘের অধীনে চলমান মানবিক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ৩১.৭ শতাংশ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের মাত্র ১৬.৯ শতাংশ নিশ্চিত করা গেছে। সুতরাং অতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অনেক বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।

এমএসএফের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারেও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। ফলে তারা খুব কমই টিকা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গারা দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত চলে যাবে, এ রকম ধারণা থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও উল্লেখ্যযোগ্য ত্রাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ফলে অনেক মানবিক সাহায্য বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে যে পরিমাণ সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছে এবং এর ফলে যে মানসিক আঘাত তারা পেয়েছে, সেই তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং যৌন সহিংসতার আঘাতের চিকিৎসাসেবা অপ্রতুল। এ অবস্থা আরও জটিল হয়েছে তাদের কোনো আইনি মর্যাদা না থাকার কারণে। ফলে তারা কোনো বিচার ব্যবস্থার শরণাপন্ন হতে পারে না এবং তাদের জন্য কোনো আইনও নেই। তার ওপর অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের ভেতরে থাকতে বাধ্য হয়, যেখানে বেশির ভাগ শরণার্থীর যথাযথ পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা/ল্যাট্রিন, শিক্ষা ব্যবস্থা, জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নেই।

এই দীর্ঘায়িত শরণার্থী সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান বের করা প্রয়োজন বলে পাভলো কলোভস মন্তব্য করেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৫

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন