রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচারে আন্তর্জাতিক প্যানেল তৈরি, ৩ দেশের বিরোধিতা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i64619-রোহিঙ্গা_নির্যাতনের_বিচারে_আন্তর্জাতিক_প্যানেল_তৈরি_৩_দেশের_বিরোধিতা
মিয়ানমারের রাখাইনে জুলুম-নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার পথ তৈরির প্রক্রিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে মিয়ানমারে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করার পর মানবাধিকার কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্ত এল।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮ ০৮:৩৩ Asia/Dhaka
  • রাখাইনের ইন দিন গ্রামে এই ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী
    রাখাইনের ইন দিন গ্রামে এই ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী

মিয়ানমারের রাখাইনে জুলুম-নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার পথ তৈরির প্রক্রিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে মিয়ানমারে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করার পর মানবাধিকার কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্ত এল।

বৃহস্পতিবার জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে ভোটাভুটির মাধ্যমে এই প্যানেল তৈরির প্রস্তাব পাস হয়। ৪৭ সদস্যের এই কমিশনে প্রস্তাবের পক্ষে ৩৫ এবং বিপক্ষে তিন ভোট পড়ে। সাত সদস্য দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসির আনা ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভোট দেয় কেবল মিয়ানমারের চীন, ফিলিপিন্স ও বুরুন্ডি।

আন্তর্জাতিক এই প্যানেল রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চালানো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ভবিষ্যতে বিচারের মুখোমুখি করতে মামলার নথি তৈরির কাজও এই প্যানেল এগিয়ে নেবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠক

মানবাধিকার কাউন্সিলের অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে গুরুতর যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটেছে, সেসব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা করবে এই আন্তর্জাতিক প্যানেল। পাশাপাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারের লক্ষ্যে ফৌজদারি মামলার নথিপত্র তৈরির কাজ এগিয়ে নেবে এই প্যানেল।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জেনিভা শাখার পরিচালক জন ফিশার বলেন, মিয়ানমারে সহিংসতার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করতে মানবাধিকার কাউন্সিলের এ পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেনাবাহিনীর অপরাধের দায়মুক্তির যে সংস্কৃতি মিয়ানমারে গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতে এই প্যানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন ফিশার।

রোহিঙ্গা শরণার্থী

তিনি বলেন, “জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের উচিৎ মানবাধিকার কাউন্সিলের এই নতুন প্যানেলকে স্বাগত জানানোর মাধ্যমে মিয়ানমারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাওপোড়াওয়ের বিচারের উদ্যোগকে সমর্থন জানানো।”

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্রাইসিস রেসপন্স বিভাগের পরিচালক তিরানা হাসান এক বিবৃতিতে বলেন, “মিয়ানমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মানবাধিকার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি মিয়ানমারের নিপীড়িত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর বিচার পাওয়ার পথ সুগম হবে।” 

মানবাধিকার কাউন্সিলে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় চীনের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।#