রক্তাক্ত আফগানিস্তান: বিদেশি সেনা উপস্থিতিকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i66077-রক্তাক্ত_আফগানিস্তান_বিদেশি_সেনা_উপস্থিতিকে_বৈধতা_দেয়ার_চেষ্টা
আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ সেনা নিহত হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) প্রদেশের একটি মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ৭৬ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
নভেম্বর ২৪, ২০১৮ ১৫:১৮ Asia/Dhaka

আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ সেনা নিহত হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) প্রদেশের একটি মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ৭৬ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সম্প্রতি রাজধানী কাবুলের একটি হোটেলে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ(সা.)এর পবিত্র জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণে প্রায় ৬০ জন নিহত হওয়ার পর ফের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। এ থেকে বোঝা যায়, সন্ত্রাসীরা গোত্রীয় সংঘাতকে ধর্মীয় তথা সাম্প্রদায়িক সংঘাতে পরিণত করার চেষ্টা করছে যা কিনা দেশটির ভবিষ্যত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে।

গত প্রায় ৪০ বছর ধরে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলেও ধর্মীয় কিংবা মাজহাবগত ইস্যুতে এতোবড় হত্যাকাণ্ড আফগান জনগণ দেখেনি। আফগানিস্তানের গোত্রীয় বিদ্বেষ কাজ করলেও ধর্মীয় ইস্যুতে জনগণ সবসময়ই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইকবাল বার্জেগার বলেছেন, "ধর্মীয় বা মাজহাবগত বিষয় নিয়ে আফগান জনগণের মধ্যে কখনোই বিরোধ ছিল না। এ অবস্থায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড নতুন ঘটনা এবং সন্ত্রাসীদের মদদদাতারা এর মাধ্যমে আফগানিস্তানে তাদের অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শত্রুরা আফগানিস্তানের জনগণের জাতীয় ঐক্য ও ধর্মীয় সংহতিকে টার্গেট করেছে যাতে ওই দেশটিতে বিভিন্ন ধর্ম, মাজহাব ও বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাত বাধানো যায়। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় কোন্‌ কোন্‌ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত কিংবা এর পেছনের মদদদাতা কারা সেদিকে না গিয়ে বার বার এ ধরণের ঘটনাকে কয়েকটি দিক থেকে মূল্যায়ন করা যায়।

প্রথমত, সর্বশেষ হোটেল ও মসজিদে যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে তা ছিল কঠোর নিরাপত্তা পরিবেষ্টিত এলাকা। এ ধরণের নিরাপদ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটানোর মাধ্যমে আফগানিস্তানের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এ কারণে এসব হামলার সঙ্গে ভেতরের কোনো কোনো মহলের হাত থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, আফগানিস্তানে শান্তি আলোচনায় যোগ দেয়ার ব্যাপারে তালেবানের সঙ্গে উগ্র গোষ্ঠীগুলোর মতবিরোধ দেখা দেয়ায় সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে, আফগানিস্তানে তালেবান হামলা বেড়ে যাওয়ায় দায়েশের মতো উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোও তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে যেসব উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৎপর রয়েছে তারা সৌদি ওয়াহাবি মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত। এ অবস্থায় ওই দুটি দেশে সৌদি প্রভাবের কারণে সহিংসতা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যাক ফ্রেইড ওল্ফ বলেছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে টার্গেট করে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর মাধ্যমে আফগানিস্তানের সরকার ও নিরাপত্তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে এর মাধ্যমে দেশটির জনগণকে রক্ষার নামে বিদেশি সেনা উপস্থিতি জোরদার করা যায়।

যাইহোক, সাম্প্রদায়িক সংঘাত উস্কে দিয়ে সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে যাতে এর মাধ্যমে এটা প্রমাণ করা যায় যে সেদেশে বিদেশি সেনা উপস্থিতির প্রয়োজন রয়েছে। #  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৪