মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রতিবন্ধক: শিশু-শ্রম
নাসিমা বেগম: ছেলেটির নাম রাজু, বয়স ১৪/১৩ বছর, বেশ ভালোই অটোরিকশা চালায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম পড়াশোনা করেছো? উত্তরে বলল: “না ম্যাডাম, গরীবের আবার লেখাপড়া! ৫ বছর বয়স থেকে চায়ের দোকানে ছিলাম এখন অটোরিকশা চালানো ধরছি- অহন আমি বড় হয়ছি, আর ৫ বছর পর বিয়া করাম।” এই তো শিশু শ্রমিকের জীবন। শিক্ষা ও সচেতনতার গণ্ডি থেকে বঞ্চিত।
গোটা বিশ্বের সম্পদ ও সংগঠনকে উপযুক্তভাবে কাজে লগিয়ে শিশুদেরকে সুস্থ, শিক্ষিত, উৎপাদনশীল ও উত্তম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা থাকলেও আজ বিশ্বে শিশুরা অশিক্ষা, ক্ষুধা দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে, আর বেঁচে থাকার সংগ্রামে বেঁচে নিয়েছে শ্রমকে। ফলস্বরূপ সারাবিশ্বে আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশুশ্রমিক। শিশু শ্রমিকরা আমাদের দেশে নানাবিধ দৈহিক, মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক শিশু সমস্যায় জর্জরিত। তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিরাপত্তাহীনতা ও নিম্ন সামাজিক মর্যাদা নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছে। দরিদ্রতা, নিরক্ষরতা, অসচেতনতা, কর্মসংস্থানের অভাব ইত্যাদি প্রেক্ষাপট থেকে আবিস্কার হয়েছে শিশু শ্রমিক। যার দায় ভার বহন করতে হচ্ছে বর্তমান সমাজকে।
আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) নীতিমালা ন্যূনতম বয়স সীমা (শিল্প) কনভেনশন, ১৯১৯ অনুযায়ী পরিবারের কোনো সদস্য কাজে নিয়োজিত না থাকলে ১৪ বছরের নীচে কোন শিশুকে কোনো শিল্পখাতে নিয়োজিত করা যাবে না। বাংলাদেশের বিভিন্ন আইন অধ্যাদেশ বিধিমালা ও বিভিন্ন নীতিমালা বিশেষ করে জাতীয় শিশু নীতিমালা (Lmo)-২০০১ এ শিশু শ্রমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এ নিরসনের কথা বলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বিধায় উদ্ভুত শিশু শ্রমিক দেশ প্রেমিক ও সৃজনশীল জনসম্পদ তৈরির প্রক্রিয়া থেকে বহুদুরে অবস্থান করছে।
বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০১২ উন্নয়নে একটি সুনিদিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যটি হচ্ছে- “শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশের মাধ্যমে মানবিক সামাজিক ও নৈতিক গুণসম্পন্ন জ্ঞানী, দক্ষ, যুক্তিবাদী ও সৃজনশীল দেশপ্রেমিক, জনসম্পদ সৃষ্টি”।১ জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার প্রক্রিয়া হচ্ছে- বিভিন্ন উপায়ে মানুষের জ্ঞান, দৃষ্টি ভঙ্গির অপেক্ষাকৃত স্থায়ী ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনয়ন করা। দক্ষ ও সৃজনশীল জন ম্পদ সৃষ্টি জন্য প্রয়োজন Development of knowledge, skill & Attitude. এ পরিবর্তন বা উন্নয়নের ক্ষেত্র হচ্ছে ‘মানুষ’। আর মানুষের শুরু হচ্ছে শিশু থেকে। প্রতিটি শিশুর মধ্যে লুকিয়ে থাকে সুপ্ত প্রতিভা ও সম্ভাবনা। এই প্রতিভা ও সম্ভাবনা কে সদ্ব্যবহারের মাধ্যমেই উৎপাদনশীল করে তুলতে হবে শিশু বান্ধব পরিবেশ।
শিশু চিহ্নিত হয় বয়সসীমা নির্ধারণ করে। United Nations Convention on the Rights of the child (CRC) ১৯৮৯ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সীদের সকলকেই শিশু বলা হয়েছে। Bangladesh’s National Plan of Action for children 1999) CRC এবং ঘোষণা অনুমোদন করে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কেই শিশু বলে অভিহিত করে।
অবশ্য International Labour Organization (ILO) ১৯৯৮ সালে উন্নয়নশীল দেশের শিশু শ্রমিকদের হিসাব দিতে গিয়ে ৫/১৪ বছর বয়সীদের শিশু হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। ‘শিশু শ্রমিক’ বলতে সাধারণত সেই সমস্ত শিশুদেরকে বুঝায় যারা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত। আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার (ILO) ১৩৮ নং কনভেনশন অনুসারে বাংলাদেশে ১৪ বছরের কম বয়সী ছেলেমেয়েরা যখন বাধ্যতামূলকভাবে বা স্বেচ্ছায় নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব পালনের জন্য আয় উপার্জনমূলক কাজের নিয়োজিত থাকে তখন তাকে শিশু শ্রমিক বলা হয়। বাংলাদেশের শিশুরা পরিবহনের হেলপার, খোলা বাজার এলাকার কুলি, গৃহকর্মী, হোটেল -রেস্টুরেন্ট বয়, খেলনা ও চকলেট বিক্রেতা, দৈনিক পত্রিকা, ফুল ও সস্তা খাবার বিক্রেতা, শহরের যানজটে থেমে যাওয়া ধনীদের গাড়ীর ক্লিনার হিসেবে কাজ করে।
সারা বিশ্বের ২৫ কোটি শিশুরা শ্রমের সাথে সংযুক্ত। বিশ্বের প্রতি ৬ জন শিশুর মধ্যে ১ জন শিশু শ্রমিক। আইএলও-এর তথ্যনুযায়ী সমগ্র বিশ্বব্যাপি ৫-১৭ বয়সী প্রায় ২৪৬ মিলিয়ন শিশু শ্রমিক রয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে শিশু শ্রমিকরা নানা ধরনের নির্যাতন লাঞ্ছনা, অপমান ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের শিকার। ইউনিসেফ, জাতিসংঘ শিশু তহবিল, দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক কার্যালয় ২০০১ কর্তৃক প্রকাশিত একটি ঘটনাঃ (অনুচ্ছেদ ২৭) “আমি সিঁড়ির নিচে ঘুমাই এবং আমার পোশাক ছেড়া আমি কেবল উদ্বৃত্ত খাবারটুকু পাই এবং মাঝে মাঝে খাবার এত কম হয় যে, আমি ক্ষুধা নিয়েই ঘুমাতে যাই”। এ দায়ভার কার!
সমাজের সকলের। আমাদের প্রায় প্রতিটি ঘরেই শিশু রয়েছে। যাদের প্রতি রয়েছে অনেক ভালোবাসা অথচ দারিদ্র্য পরিবার থেকে আগত শিশু শ্রমিকটির প্রতি কি আমাদের কোন দায়িত্ব নেই? সামাজিক মুল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ পারে শিশু শ্রমিকদের সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা দিতে। লেখক শওয়ালা খান বলেছেনঃ “শিশুদের সুষ্ঠ মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন বড়দের ভালোবাসা ও মনোযোগ। তিনি আরও বলেন, সাধারণ চার বছর বয়স থেকে শিশু গুছিয়ে কথা বলতে শেখে এবং শিশুর মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে পরিবার ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূণ অথচ অভিভাবকদের ভালোবাসা ও মনোযোগ পাবার এই সময়টিতে শিশু থাকে ঘরের বাইরে শ্রমিক রূপে, আর বিদ্যালয়ের পদাপনের পরিবর্তে নিয়তির পরিহাস তাকে ঠেলে নিয়ে যায় ধনীর ঘরের ভালোবাসাহীন পরিবেশে।
১৯৩৭ সালে জামান দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ ফেডারিক ফ্রোয়েলবেল কিন্ডারগার্টেন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করে। “কিন্ডারগার্টেন” অর্থ “শিশুদের বাগান”। তার মতে- “শিশুদেরকে” বাগানের চারা ও ফুলের সঙ্গে তুলনা করা যায়। গাছের চারা ও ফুলের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মালিকে যেমন সঠিক মাটি, পরিমাণমত সার, পরিমাণমত পানি, আগাছা পরিস্কার প্রভৃতির কথা অত্যন্ত যত্ন সহকারে চিন্তা করতে হয়। ঠিক একইভাবে একজন শিশুর বিকাশের জন্য অভিভাবকে প্রয়োজনীয় সব রকম যত্ন নিতে হয়। বাংলাদেশের শিশু শ্রমিক উত্তরোত্তর ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। National child labour survey ২০০২-০৩ এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১২,৯১০০০ জন। এক্ষেত্রে ছেলে শিশুরা মেয়েদের চেয়ে যথাক্রমে ৪২০০০০ এবং ৬৩৩০০০ জন বেশী হারে কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত।
বাংলাদেশের কৃষক যেমন জমিতে বীজ বপন করে ফসল ফলিয়ে বাজারজাতের মাধ্যমে বীজটাকে সম্পদে পরিণত করে। তেমনি সমাজের বীজ মানব শিশুকে মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে, শিক্ষা, শিখন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর এই জন্য প্রয়োজন শিশুর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদন ইত্যাদি মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা। মেধা বিকাশ ও উন্নয়নে চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানী বলেন, “পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ, দুঃশ্চিন্তাহীন মন, সুস্থ দেহ ও চাহিদা পূরণের মাধ্যমে মেধার উৎকর্ষতা সম্ভব। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে শিশুদের দৃষ্টিপট হচ্ছে- ‘কর্মজীবনে প্রবেশের কারণে শিশু শ্রমিকরা খেলার সূত্র ভুলে গেছে। শিশু শ্রমিকরা মৌলিক অধিকারগুলো সুরক্ষার দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারের একার নয়, মালিকপক্ষও এর জন্য দায়ী।
বর্তমান বিশ্বেও বাংলাদেশে শিশু শ্রম বন্ধের জন্য আইন রয়েছে। কিন্তু এসব আইনের কোনো প্রয়োগ নেই বিধায় শিশু শ্রমিকরা আজ করুণ পরিণতির মুখোমুখি। যার প্রভাব সমাজকে করে তুলেছে সমস্যা বহুল। ইউনিসেফ জাতিসংঘ শিশু তহবিল, দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক অঞ্চলিক কার্যালয় (অনুচ্ছেদ- ৩৭) “যখনই আমি কোন ভুল করি, তখনই আমাকে শাস্তি দেয়া হয়, এবং সেই দিন কোন খাবার দেয়া হয় না, যখন আমার মালিকরা কোথাও বেড়াতে যায়, তারা বাসা তালাবদ্ধ করে রেখে যায়, আমি নিজেকে খাঁচায় আবদ্ধ পাখির মত অনুভব করি।”
এক্ষেত্রে শুধু শিশু শ্রম আইন নয় মালিকের সামাজিক মুল্যবোধ ও আদর্শই পারে গৃহকর্মে নিযুক্ত একজন শিশু শ্রমিকের মৌলিক অধিকারগুলো সুরক্ষা করতে। শিশু শ্রমিকরা যে সকল সামাজিক প্রভাবের করুণ পরিণতির সম্মুখীনঃ-
সেগুলো হলঃ-
ক) শিশু শ্রমিকরা শিক্ষা জগতের পরিবর্তে আপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
খ) অপসংস্কৃতি ও অপরাজনীতির শিক্ষার হয়।
গ) অপুষ্টিতে ভোগার কারনে সঠিক সামাজিক ভূমিকা পালন করতে পারে না।
ঘ) অশিক্ষার কারণে পরবর্তী জীবনের সর্বক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
ঙ) দক্ষ, যুক্তি বাদী, দেশপ্রেমিক ও সৃজনশীল জনসম্পদে পরিণত হওয়ার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত।
শিশু শ্রমিকদের প্রতি সামাজিক দায়িত্বঃ
বাংলাদেশের নিম্ন মাথাপিছু আয়ের দরিদ্রক্লিষ্ট জনগোষ্ঈ জীবন জীবিকার তাগিদে অতি আদরের সন্তানদেরকে ঠেলে দিচ্ছে অর্থ উপার্জনের দিকে। এই শিশুরা সমাজের অনু। শিশু শ্রম যেমন একাধারে শিশুর বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর তেমনিও বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নের প্রধানবাধা। শিশু শ্রমিকদের জন্য সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শের আঙ্গিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও বিধিমালা কার্যকর করতে হবে। শিশু শ্রম সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়গুলো:
ক) অভিভাবক থেকে শুরু করে সকল মহলকেই শিশু শ্রমিকদের প্রতি সজাগ ও সচেতন হতে হবে।
খ) মালিক পক্ষ নিজ উদ্যোগে শিশু শ্রমিকের জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা সৃষ্টির জন্য কাজের ঘণ্টা কমিয়ে দিয়ে শিক্ষা, শিখন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
গ) গৃহকর্মে নিযুক্ত শিশু শ্রমিকদের ক্ষেত্রে মালিক যদি নিজের সন্তানের মত অনুভূতিশীল হৃদয়ে নিয়ে দরিদ্রক্লিষ্ট আশ্রিত শিশুটির প্রতি সমাজের দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে শিশু শ্রমিকটির জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
ঘ) ‘সেভ দ্যা চিলড্রেন’ (Save the children) ১৯৭০ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করে চলেছে। এ সংগঠন শিশুর বিকাশ, উন্নয়ন এবং সকল শিশুর জীবন থেকে বাধাসমূহ দুর করার লক্ষ্যে যে সকল কর্মসূচি নিয়েছে। শিশু শ্রমিকদের সেই কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। এ দায়িত্ব পালন করবেন সমাজের প্রভাবশালী ও নেতৃত্বদানকারী মহল। এই দায়িত্বে পালনের জন্য প্রয়োজন সামাজিক মূল্যবোধে গঠিত একটি অনুভূতিশীল অন্তর।
ঙ) ‘সেভ দ্যা চিলড্রেন’ এর সহযোগী সংস্থা-‘ব্রেকিং দ্যা লাইসেন্স’- শিশু সুরক্ষায় এ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পুস্তিকা প্রকাশ করে শিশুদের নিজেদের রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি করে। অভিভাবক মহলকে এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে শিশু শ্রমে নিযুক্ত হওয়ার পূবেই যোগাযোগ করতে হবে।
চ) মালিক পক্ষ শিশু শ্রমিকদের সমাজে সুষ্ঠভাবে বেঁচে থাকার জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মনো- সামাজিক সহায়তা প্রদান করবেন।
* শিশু শ্রমিক দেখা গেলে অভিভাবক মহলের সামাজিক দায়িত্ব হবে- সেভ দ্যা চিনড্রেন ও World Vision এর কার্যক্রমের আওতায় শিশু শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে জন্য আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসা।
* “মালিকগণ শিশু শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নে” মালিক পক্ষ একটি অনুকুল পরিবেশ তৈরি করে শিশুবান্ধব পরিবেশে স্বপ্নপূরণের জন্য সরকার ও সুশীল সমাজে সাথে একযোগে কাজ করবে।
* শিশু শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।
* Corporate Social Responsibility (CSR) এর প্রয়োগশীল ভুমিকার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের শিশু অধিকার ও শ্রম আইনে নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।
* শিশু শ্রম বন্ধ করার দায়িত্ব সরকারের একার নয়, সকল স্তরের সমাজ সচেতন ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসতে হবে।
শিশুর মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের অধীনে ‘শিশুশ্রম নিরসন (৪র্থ পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ৫০,০০০ শিশু শ্রমিকের ১৮ মাসব্যাপী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং ৯টি ট্রেডে ৬ মাসব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৩২ লক্ষ শিশু শ্রমিক রয়েছে। প্রশিক্ষণ পেয়েছে মাত্র ৫০,০০০ শিশু। এটা খুবই সামান্য দেশের অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধক। জুলাই ২০১৪ হতে বাংলাদেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিশু শ্রমিকদের জন্য শ্রম উইং ইউনিট-এর তত্ত্বাবধানে চাইল্ড লেবার ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু এই সেবা থেকে অধিকাংশ শিশু শ্রমিক বঞ্চিত। যুদ্ধ বিধ্বস্ত শিশুদের নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী ও শিক্ষক Englantyne Jebb ১৯৯৯ mv‡j Save The Children In The United Statles গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৩২ সালে আমেরিকায় কিছু সমাজ সচেতন ব্যক্তি Jebb এর Vision - এ উদ্বুদ্ধ হয়ে Save The Children In The United Statles প্রতিষ্ঠা করেন। তাই বাংলাদেশের শিশু শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য কিছু সমাজ সচেতন ব্যক্তিকে Jebb এর Vision অনুসরণ করে Save The children from labour গঠন করতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সামাজিক দায়িত্ব পালনে সকলে উদ্যোগী হলে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা কমে আসবে, বন্ধ হবে শিশু শ্রম। শিশু শ্রমিকদের জীবন হবে বিকাশমুখী, শিশুরা গড়ে উঠবে দক্ষ ও যুক্তিবাদী দেশপ্রেমিক ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে।#
লেখিকা: প্রভাষক সমাজ কর্ম বিভাগ, ময়মনসিংহ মহিলা ডিগ্রী কলেজ ।