খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ল: আ. লীগ-বিএনপির প্রতিক্রিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আজ (বুধবার) জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগের শর্তে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত আজকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল সরকার। আগামী ২৪ মার্চ এর মেয়াদ শেষ হবে। প্রতিবার একই শর্তে তাকে কারাগারের বাইরে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, মুক্ত অবস্থায় খালেদা জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।
সরকার মহানুভবতা দেখিয়েছে: হাছান মাহমুদ
তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পরও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি যে মহানুভবতা দেখিয়েছে সরকার তা মনে রাখা উচিত বিএনপির।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আজ সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, দুর্নীতির দুই মামলায় আদালতের রায়ে ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ২ বছর ধরে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে গুলশানস্থ নিজ বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে: ফখরুল
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
আজ দুপুরে মানিকগঞ্জে বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় যোগ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি সব মহলে ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এত বড় দুর্নীতি আমরা আগে কখনও দেখিনি। পরিকল্পিতভাবে এই সরকার দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ভোটারবিহীন সরকারকে অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। জনগণের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে, জনগণই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। জনগণের সরকার করতে হলে নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার লাগবে। আওয়ামী লীগের অধীনে এটা হবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনের বিকল্প নেই।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।