চিনিকলে লোকসান কমাতে অ্যালকোহল উৎপাদনের উদ্যোগ
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫টি চিনিকলে পুঞ্জিভূত লোখসানের বোঝা কমাতে দু’টি চিনিকলে অ্যালকোহলসহ চিনিজাত নানা পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের লক্ষ্য বছরে ৯০ লাখ লিটার অ্যালকোহল উৎপাদন। এসব অ্যালকোহল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে শতকোটি টাকা আয় হবে বলে আশা করছে সরকারি সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একমাত্র অ্যালকোহল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোং বলছে, গত ছয় মাসে তাদের উৎপাদিত দেশি মদের বিক্রি ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশে অ্যালকোহলের চাহিদাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কেরু অ্যান্ড কোং বলছে, নতুন বছরে তারা তাদের উৎপাদন আরও বাড়াচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে উৎপাদন দ্বিগুণ কমরার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কোম্পানিটি। কারণ মদ উৎপাদন করে লাভের মুখ দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের মতো নতুন নতুন পণ্যের ভিন্নতা আনা হবে নর্থবেঙ্গল ও ঠাঁকুরগাঁও চিনিকলে।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমানগণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দুটি চিনিকলে অ্যালকোহল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে এসব অ্যালকোহলের প্রচুর চাহিদা। এজন্য নতুন করে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করা হবে। বর্তমানে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডে অ্যালকোহল তৈরি হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁও ও নর্থবেঙ্গলে অ্যালকোহল তৈরি করা হবে। এসব প্রোডাক্ট বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। এছাড়া ওষুধ তৈরির জন্যও কিছু অ্যালকোহল প্রয়োজন হয়। এসব পণ্যও তৈরি করবো। শুধু চিনি বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয়।’ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৩২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘নর্থবেঙ্গল চিনিকলে কো-জেনারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সুগার রিফাইনারি স্থাপন’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ ৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ের পর থমকে আছে প্রকল্পের কাজ।
নর্থবেঙ্গল চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল আজম গণ মাধ্যমকে বলেছেন, বর্তমানে বন্ধ থাকা প্রকল্পের কাজ নতুনভাবে হয়তো শুরু করতে হবে। প্রকল্পটি যে বাজেটে অনুমোদন হয় সেই বাজেটে দরপত্র মিলছে না। নতুনভাবে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। প্রকল্পও নতুনভাবে নিতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে দরপত্র আহ্বান করা হলেও বাজেট মিলছে না। প্রাথমিকভাবে কিছু ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি বন্ধ। ওদিকে, ঠাকুরগাঁও চিনিকল পুরোনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন ও সুগার বিট থেকে চিনি উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন করার প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুন মেয়াদে শেষ হওয়ার কথা থাকলে সময় পেরিয়ে গেছে ১০ বছর। অথচ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ১৭ শতাংশ। বর্তমানে বন্ধ রয়েছে প্রকল্পের কাজ। ঠাকুরগাঁও চিনিকলের জিএম (প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, প্রকল্পের কিছু গাড়ি কেনা হয়েছিল; এছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ বন্ধ। কবে শুরু হবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।