ওয়ানডে সিরিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অনায়াসে হারিয়ে তৃপ্ত তামিম ইকবাল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে চাপের মাঝে থাকা বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্যারিবীয়দের দেওয়া ১৫০ রানের লক্ষ্য টপকাতে নেমে ৫৫ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা।
গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির বাগড়ায় ৪১ ওভারে নেমে আসে লড়াইয়ে স্বাগতিকদের দেওয়া ১৫০ রানের লক্ষ্য তারা পেরিয়ে যায় ৫৫ বল হাতে রেখে। সফরকারীদের জয়ের মূল সুর বেঁধে দিয়েছিলেন বোলাররা। পেসার শরিফুল ইসলাম ৪ ও অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ৩ উইকেট দখল করেন।
দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন সংস্করণে টানা হারের পর পাওয়া এই সাফল্যে তৃপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ম্যাচের পর তিনি জানিয়েছেন, ড্রেসিং রুমে ইতিবাচক বার্তা আসবে এই জয় থেকে, 'সিরিজ শুরুর আগেও বলেছিলাম যে হারতে কখনোই ভালো লাগে না। জিতলে আবহ ভালো থাকে, ড্রেসিং রুমের অবস্থা ভালো থাকে। সেদিক থেকে ভালো লাগছে প্রথম ম্যাচ জিতে।'
সিরিজে ভালো শুরুকে গুরুত্বপূর্ণ মানছেন তিনি, 'টিম মিটিংয়েও আমি একটা কথা বলেছি যে আমি ওয়ানডে অধিনায়ক বলেই যে সব বদলে যাবে তা না। টি-টোয়েন্টি ও টেস্টে যারা অধিনায়ক ছিল, খেলোয়াড় যারা খেলেছে, সবাই তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে ভালো করতে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভালো করতে পারিনি আমরা। এই ম্যাচে আমরা ভালো শুরু করতে পেরেছি। এটা গুরুত্বপূর্ণ।'

বোলারদের প্রশংসায় মেতেছেন বাঁহাতি ওপেনার তামিম, 'বোলাররা যেভাবে বল করেছে...কখনও কখনও এই ধরনের উইকেটে, যেখানে অনেক সহায়তা আছে, বোলাররা বেশি লোভী হয়ে উঠতে পারে। তবে আমরা তা হইনি। এটা জরুরি ব্যাপার ছিল। মিরাজ ও পেসাররা দারুণ বল করেছে। যদিও বল অনেক টার্ন করছিল উইকেটে, এখানেই আমাদের একজন পেসার ৪ উইকেট নিয়েছে। সে মূলত আমাদের ম্যাচে ফিরিয়েছে। সব মিলিয়ে তাই খুব তৃপ্তিদায়ক।'
চারটি সহজ ক্যাচ ছাড়ায় তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি, 'ভালো দলের বিপক্ষে এই ক্যাচগুলো ছাড়ার মূল্য অনেক বড় হতে পারে। অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই বলছি, এটা নিয়ে আমি চিন্তিত। এটা বন্ধ করতে হবে, কমে আসতে হবে। ক্যাচগুলো ধরলে আমরা হয়তো এই ম্যাচে ১১৫ রান তাড়া করতাম। সমস্যা কোথায় খুঁজে বের করতে হবে।'
গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে লক্ষ্য টপকাতে নেমে অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আকিল হোসাইনের শর্ট বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে গিয়েছিলেন লিটন দাস। কিন্তু বল মিস করলে এলবিডব্লিউর আবেদন করে উইন্ডিজ। আম্পায়ার জো উইলসন দীর্ঘক্ষণ সময় নিয়ে আঙুল তোলেন। লিটন রিভিউ নেন। দেখা যায় আম্পায়ার্স কলে আউট হন তিনি। আম্পায়ার নট আউট দিলে টিকে যেতে পারতেন। সাজঘরে ফেরার পথে নিজের আউট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন লিটন।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে দলের হাল ধরেন তামিম। ব্যাট হাতে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এই বাঁহাতি। তবে ইনিংসের অষ্টম ওভারে ব্যক্তিগত ৩৩ রানে আউট হন তিনি। অফ সাইডে বল পাঠিয়ে শান্ত এক রান নিতে চেয়েছিলেন। তামিম সেই ডাকে সাড়া দেন। কিন্তু অ্যান্ডারসন ফিলিপের সরাসরি থ্রো তাকে বাঁচাতে পারেনি। ২৫ বলে ৩৩ রানের কুইক ফায়ার ইনিংস খেলেন তামিম। যেখানে ৪টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান।
তামিমের আউটের পর নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দলের হাল ধরেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে এই পার্টনারশিপ থেকে আসে ৪৯ রান। শান্ত ৪৬ বলে ৩৭ রানে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। পরে অবশ্য পুরানের স্পিনে বোল্ড হন মাহমুদউল্লাহ। তবে নো বলের কল্যাণে বেঁচে না তিনি। মাহমুদউল্লাহ বাঁচলেও বাঁচতে পারেননি আফিফ হোসেন। পুরানের শিকার ১৭ বলে ৯ রান করে।
১১১ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর দলকে আর কোনো বিপদে পড়তে দেননি দুই ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ আর নুরুল হাসান সোহান। মন্থর উইকেটের চাপ জয় করে দলকে এনে দেন ৬ উইকেটের বড় জয়। মাহমুদউল্লাহ ৬৯ বলে ২টি চার ও ১টি ছয়ের মারে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন। ২৭ বলে ২০ রান করেন সোহান।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি উইন্ডিজের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার শাই হোপ। ডানহাতি ব্যাটসম্যান খুলতে পারেননি রানের খাতা। দ্বিতীয় পাওয়ার প্লের শুরুতে আরেক ইনফর্ম ওপেনার কাইল মায়ার্সকে ফেরান মিরাজ। তার অ্যাঙ্গেল ডেলিভারি পিচ করে হালকা বাঁক খেয়ে স্ট্যাম্পে আঘাত করে। ২৭ বলে ১০ রান করে ফেরেন মায়ার্স।
৩২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ইনিংসের ২১তম ওভারে জোড়া আঘাতে শামার ব্রুকস ও ব্র্যান্ডন কিংকে আউট করেন শরিফুল। কিং ৮ রান করেন, ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে ব্রুকসের ব্যাট থেকে। সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক নিকোলাস পুরান আর হার্ডহিটার রভম্যান পাওয়েল। দুইজনকেই ফেরান মিরাজ। পুরান করেন ১৮ রান, পাওয়েল লেগবিফোরের ফাঁদে পড়েন ৯ রান করে।
এরপর ৩ রানে থাকা আকিল হোসাইন রান আউটে কাটা পড়লে একশর কোটা ছোঁয়ার আগেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিক শিবির। পরে রোমারিও শেইফার্ডের ১৫ রানের সঙ্গে সিলস আর ফিলিপের ৩৯ রানে শেষ উইকেট জুটিতে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানের সংগ্রহ পায় ক্যারিবীয়রা। যেখানে ফিলিপ ২১ আর সিলস ১৬ রান করেন। বাংলাদেশ দল অবশ্য আরও আগেই আটকাতে পারতো প্রতিপক্ষকে। একাধিক ক্যাচ ছেড়েছেন সফরকারী ফিল্ডাররা।
আগামী বুধবার সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নামবে বাংলাদেশ।#