মানবতাবিরোধী অপরাধ: জামালপুরের ৩ আসামির ফাঁসি, ৫ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
-
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এস এম ইউসুফ আলী ও অ্যাডভোকেট শামসুল হক
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামালপুরের তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য পাঁচজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ (সোমবার) বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন—আশরাফ হোসেন, আবদুল হান্নান ও মো. আবদুল বারী। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বা গুলি করে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরা করা যাবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন—জামালপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির শামসুল হক, সাবেক জামায়াত নেতা এস এম ইউসুফ আলী, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. হারুন ও মো. আবুল কাসেম।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে ২৮৯ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা পাঁচ অভিযোগের মধ্যে তিনটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রমাণিত ২ নম্বর অভিযোগে ৩ আসামিকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়েছে।
গত ১৯ জুন এই মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর রায় অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
আসামির মধ্যে অ্যাডভোকেট শামসুল হক ও ইউসুফ আলী কারাবন্দী। ২০১৫ সালের ৩ মার্চ জামালপুর শহরের জিগাতলা এলাকায় নিজ বাসা থেকে এসএম ইউসুফ আলী ও নয়াপাড়াস্থ নিজ বাসা থেকে অ্যাডভোকেট শামসুল হককে গ্রেফতার করা হয়। রায় ঘোষণা উপলক্ষে আজ তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। বাকি ছয়জনকে পলাতক দেখিয়ে এই মামলার বিচার হয়েছে।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, গুম প্রভৃতি মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয় জামালপুরের এই আটজনের বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৬ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে এই আটজনের বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন কৌঁসুলি তুরিন আফরোজ ও তাপস কান্তি বল। গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান, এহসান এ সিদ্দিকী ও গাজী এম এইচ তামিম। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার।#
পার্সটুডে/এআর/১৮