'রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো সহজ সমাধান নেই'
কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা বলেছেন, মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে।
আজ (রোববার) রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনের পর ব্রিটেনের স্থায়ী প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স মন্তব্য করেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে।
তিন দিনের সফরে গতকাল শনিবার ৪০ সদস্যের এ প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে আসে। আজ সফরের দ্বিতীয় দিনে সকালে প্রথমেই তারা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির কোনারপাড়ায় শূন্যরেখায় যায়। সেখানে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন দলটির সদস্যরা। পরে কুতুপালং শিবিরে এসে ঘুরে দেখেন।
এ দলের সদস্যরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের চারটি দলের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলেন।
এরপর তাঁরা সংবাদ সম্মেলনে তাদের মনোভাব ব্যক্ত করেন। সফরকারী এ দলের সদস্য এবং নিরাপত্তা পরিষদে পেরুর স্থায়ী প্রতিনিধি গুস্তাভ মেজা কোয়াদ্রা বলেন, ‘রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে কীভাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সহযোগিতা করা যায়, সেটি বুঝতে এ সফরে এসেছি। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে আমরা সহযোগিতা করে যাব।’
কোয়াদ্রা বলেন, এখন যে পরিস্থিত রয়েছে, তা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফিরে যাওয়ার জন্য উপযোগী নয়।
বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের যে সহযোগিতা করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি মনুসর আল ওতাইবি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও এ দেশের জনগণ রোহিঙ্গাদের যে সহযোগিতা করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
রোহিঙ্গাদের বিষয় নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র চীন ও রাশিয়ার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নিরাপত্তা পরিষদে চীনের প্রতিনিধি বলেন, ‘এ সমস্যা যে বাংলাদেশের জনগণকে কতটা প্রভাবিত করছে, তা আমরা বুঝতে পারছি। আমরা মনে করি, এ সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান দরকার দুই দেশের মধ্যেই। সমস্যার সমাধানে মানবিক দিকটি বিবেচনা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে শুরু থেকেই চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। তিনি এও উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো সহজ সমাধান নেই।
নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে পেরুর স্থায়ী প্রতিনিধি গুস্তাভ মেজা কোয়াদ্রা বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি বাস্তব পরিস্থিতি কী তা বুঝতে এবং জানতে। নিউইয়র্কে ফিরে আমরা আলোচনা করব। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯