রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় আমরা আশাহত: জাতিসংঘে শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i64618-রোহিঙ্গা_প্রত্যাবাসন_শুরু_না_হওয়ায়_আমরা_আশাহত_জাতিসংঘে_শেখ_হাসিনা
মিয়ানমার সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এক বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পাদিত চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮ ০৭:২৪ Asia/Dhaka
  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা
    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা

মিয়ানমার সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এক বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পাদিত চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ (শুক্রবার) বাংলাদেশ সময় ৫টার দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে গত বছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আমি পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলাম। আমরা আশাহত হয়েছি যে আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হয়নি। মিয়ানমার মৌখিকভাবে সব সময় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেব বলে অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে বিবরণ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাতে আমরা হতভম্ব। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ওপর ঘটে যাওয়া অত্যাচার ও অবিচারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে।’

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিন: শেখ হাসিনা

জাতিসংঘে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একজন মানুষ হিসেবে রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশাকে আমরা যেমন অগ্রাহ্য করতে পারি না, তেমনি পারি না নিশ্চুপ থাকতে। বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক নিপীড়িত ও রোহিঙ্গাদের মতো নিজ গৃহ থেকে বিতাড়িত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আমার হৃদয়কে ব্যথিত করে। এ জাতীয় ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও টেকসই সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ। প্রথম থেকেই আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে, মিয়ানমার মৌখিকভাবে সব সময়ই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু রোহিঙ্গা সমস্যার উদ্ভব হয়েছে মিয়ানমারে, তাই সমাধানও হতে হবে মিয়ানমারে। জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের যে চুক্তি হয়েছে, আমরা তারও আশু বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা দেখতে চাই। আমরা দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।’

শেখ হাসিনা তাঁর রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টার কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরুল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সফলতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদসহ সব সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমরা পরিচালিত হতে দিব না। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আমাদের ‘ জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।  

ফিলিস্তিন সমস্যার দ্রুত সমাধান দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্রাতৃপ্রতীম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন আজও অব্যাহত রয়েছে যা আমাদের মর্মাহত করে। এ সমস্যার আশু নিষ্পত্তি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ওআইসি’র পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে আমরা ওআইসি’র মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাব।  

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব যে বাংলাদেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে, বাংলাদেশ যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা ১০টি দেশের একটি, সে কথাও বিশ্বনেতাদের মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৮

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন