নাগরিকত্বসহ ৫ দফা দাবিতে অনড় রোহিঙ্গারা: প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি
-
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের শুরু হবার কথা থাকলেও তারা তাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া ফেরত যেতে রাজী না হওয়ার কারণে কোনো প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ পুরোপুরি প্রস্তুত থাকার পরেও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে যাচ্ছে এই প্রক্রিয়া। তবে যেসব রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হবে।
তবে, প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে টেকনাফের উনচিপাং এলাকার ২২ নম্বর ক্যাম্পে জড়ো করার পর তারা 'ন যাইয়ুম, ন যাইয়ুম' (যাবো না, যাবো না) স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের জানানো হয় যে তাদের জন্য অন্তত তিনদিনের খাবার দাবার ও জরুরি প্রয়োজনের দ্রব্যাদিসহ বাসে করে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।
এরপর তাদের বাসে ওঠার আহ্বান জানালে 'যাবো না' বলে স্লোগান দেয়া শুরু করে তারা। বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় কয়েকজনের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায় যেখানে তারা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদান, নিরাপত্তার নিশ্চয়তাসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে।
ওদিকে, জোরপূর্বক প্রত্যাবাসিত হওয়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে তাদের ঘরত্যাগ করে অন্যত্র সরে গেছে।
গতকাল বুধবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার লোকজন রোহিঙ্গাদের সাথে দেখা করে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানায়। সেসময় রোহিঙ্গারা জানায় যে তারা বর্তমান অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। এ সময় কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে সহিংসতার আশংকায় সেনা মোতায়েন করা হয়।
অপরদিকে, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তাদের সুপারিশ অনুযায়ী অতিসত্বর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শরণার্থী অধিকার বিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেছেন, 'রোহিঙ্গাদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো শুরু করলে বাংলাদেশ খুবই দ্রুত আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাবে।’
বিল ফ্রেলিক বলেছেন, "রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যেই আন্তর্জাতিক সুনাম অর্জন করেছে, তা ধরে রাখতে হলে তড়িঘড়ি প্রত্যাবাসন শুরু করে রোহিঙ্গাদের আবারো হুমকির মুখে ফেলা থেকে বিরত থাকা উচিত।"
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন