সাকিব ম্যাজিকে আফগানিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ, টিকে রইল সেমির স্বপ্ন
-
সাকিব আল হাসানের উল্লাস
সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আফগানিস্তানকে ৬২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে ৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে এল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। সেইসঙ্গে সেমিফাইনালে খেলার আশাও টিকিয়ে রাখল টাইগাররা।
আজ (সোমবার) সাউদাম্পটনের রোজ বোলে টসে হেরে আগে ব্যাট করে সাত উইকেটে ২৬২ রান করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন মুশফিকুর রহিম। সাকিব করেন ৫১ রান। ২৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৪৭ ওভারে ২০০ রানে অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। ১০ ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ২৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট পান সাকিব।
আফগানদের উদ্বোধনী জুটিটা ভাঙেন সাকিব। ১১তম ওভারে বল করতে আসেন সাকিব আল হাসান। ওই ওভারের শেষ বলে রহমত শাহ ক্যাচ দেন তামিমকে। এরপর যখনই সাকিব আসেন গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।
বোলিংয়ে এমনই আক্রমণাত্বক ছিলেন সাকিব যে প্রথম চার ওভারে মাত্র চার রান দেন। নিজের চতুর্থ ওভারের সময় সিলি পয়েন্টে দাঁড় করিয়ে দেন লিটন দাসকে। আসগর আফগান অসহায়ের মতো ছয়টি বল ফেরান!
দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন অধিনায়ক গুলবাদিন। ২৯তম ওভারে গুলবাদিনকে আউট করেন সাকিব। শর্ট মিড অফে লিটনকে দাঁড় করান মাশরাফি। এতেই কাজ হয়। সোজা লিটনের কাছে ক্যাচ দেন গুলবাদিন। এরপরই আসেন নবী। ভারতের সঙ্গে যিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করেন। একটি বল পরেই নবীকে বোল্ড করেন সাকিব। শূন্য রানে ফেরত যান তিনি।
থিতু হতে চেয়েছিলেন আসগর আফগান। ৩৮ বলে ২০ রান তুলেও নিয়েছিলেন। সেই আসগরকে আউট করেন সাকিব। ইকরাম আলিখিলকে দারুণ ভাবে রান আউট করেন লিটন দাস। রশিদ খান ও দৌলত জাদরানকে ফেরান মুস্তাফিজ। বলের পর ব্যাট হাতেও ব্যর্থ ছিলেন রশিদ। মাত্র দুই রানে আউট হন তিনি।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজ দুটি উইকেট লাভ করেন। মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট পান।
এর আগে বাংলাদেশ ইনিংসের পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলেই বিদায় নেন লিটন দাস। মুজিব উর রহমানের বলে শর্ট কাভারে হাশমতউল্লাহ শাহিদির তালুতে বন্দি হন লিটন। মাঠের আম্পায়ার আউটের সফট সিগন্যাল দিয়ে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠান। টিভি রিপ্লে দেখে থার্ড আম্পায়ার পাকিস্তানের আলিম দার লিটনকে আউট বলে ঘোষণা করেন। যদিও আউটটি নিয়ে যথেষ্টই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা যায়, মাটি স্পর্শ করা বল তুলেছেন শাহিদি। বিদায়ের আগে ১৭ বলে দুই বাউন্ডারিতে ১৬ রান করেন লিটন। বাংলাদেশ দলীয় ২৩ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায়।
ইনিংসের ১৭তম ওভারের শেষ বলে তামিমকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ নবী। দলীয় ৮২ রানের মাথায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারায়। তামিম বিদায়ের আগে করেন ৩৬ রান। তার ৫৩ বলের ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে সাকিবকে এলবির ফাঁদে ফেলেন রশিদ খান। বাংলাদেশ রিভিউ নিলে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বেঁচে যান সাকিব। তবে ইনিংসের ৩০তম ওভারে মুজিব উর রহমানের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন সাকিব। তার আগে চলতি বিশ্বকাপে তিনটি ফিফটি আর দুটি সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেন। ৬৯ বলে এক বাউন্ডারিতে করেন ৫১ রান। দলীয় ১৪৩ রানের মাথায় বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায়।
ইনিংসের ৩২তম ওভারের শেষ বলে মুজিব এলবির ফাঁদে ফেলেন সৌম্য সরকারকে। রিভিউ নিয়ে বাঁচতে পারেননি ১০ বলে ৩ রান করা সৌম্য সরকার। দলীয় ১৫১ রানের মাথায় বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায়। এরপর জুটি গড়েন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। এই জুটিতে আসে ৫৬ রান। দলীয় ২০৭ রানের মাথায় বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ। গুলবাদিন নাইবের বলে মোহাম্মদ নবীর হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ৩৮ বলে দুই বাউন্ডারিতে করেন ২৭ রান।
মুশফিক টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পিছনেই ছুটছিলেন। ইনিংসের ৪৯তম ওভারে বিদায় নেন ব্যক্তিগত ৮৩ রানে। তার আগে মোসাদ্দেককে নিয়ে স্কোরবোর্ডে ৪৪ রান যোগ করেন মুশফিক। ৮৭ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কায় মুশফিক তার ইনিংসটি সাজান। মোসাদ্দেক হোসেন ২৪ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৩৫ রান করে ইনিংসের শেষ বলে বোল্ড হন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২ রানে অপরাজিত থাকেন।
মুজিব উর রহমান ১০ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে পান তিনটি উইকেট। গুলবাদিন নাইব ১০ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন। দৌলত জাদরান ও মোহাম্মদ নবী একটি করে উইকেট পান।
অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে আজ ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। সেইসাথে অনেকগুলো মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ছুঁয়েছেন এক হাজার রান। ইতিহাসের একমাত্র অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপে ৩০ উইকেট ও হাজার রানের রেকর্ড গড়ে বসিয়েছেন নিজের একার নতুন রাজত্ব। এখানেই শেষ নয়। যুবরাজ সিংয়ের (২০১১ বিশ্বকাপ) পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে একই ম্যাচে ফিফটি ও ৫ উইকেট নেওয়ার বিরল তালিকাতেও নাম উঠেছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের। এছাড়া, এবার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায়ও ফের ডেভিড ওয়ার্নারকে টপকে এক নম্বরে উঠে গেছেন তিনি। পাকিস্তানি বোলার মোহাম্মদ আমিরকে (৫/৩০) ছাপিয়ে আসরের সেরা বোলিং ফিগারও এখন পর্যন্ত সাকিবেরই।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৪