৭ দফা দাবিতে উত্তাল বুয়েট, শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক
আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ সাত দফা দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে জড়ো হন। সাড়ে ১০টার দিকে তারা সাত দফা দাবির কথা জানিয়ে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহীদ মিনার হয়ে শেরে বাংলা হলের ভেতরে প্রদক্ষিণ করে আহসান উল্লাহ হল, কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনের চত্বর ঘুরে শহীদ মিনারে আসে।
এসময় আবরার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। মিছিল থেকে আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি বলা হয় ‘খুনিদের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’। এছাড়াও বিকেল পাঁচটার মধ্যে উপাচার্য (ভিসি) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করলে প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দেন তারা।
সাত দফা দাবিগুলো হলো- ফাহাদ হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত ও খুনিদের ছাত্রত্ব আজীবনের মতো বাতিল, দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি, ঘটনার ৩০ ঘণ্টার মধ্যেও ঘটনাস্থলে ভিসি কেন উপস্থিত হননি তার জবাবদিহিতা, আবাসিক হলগুলোতে র্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল, একই সঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার। সর্বশেষ দাবিটি হচ্ছে, আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও সব মামলার খরচ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
এদিকে, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।
বেলা ১১টার দিকে বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে আবরার ফাহাদ হত্যার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নেবাণে জর্জরিত করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা তার কাছে জানতে চান, রাত ২টার সময় হলে পুলিশ ঢুকল কীভাবে? এ প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, সেটা হলের প্রভোস্টকে জিজ্ঞেস করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ‘ভুয়া, ভুয়া, পদত্যাগ, পদত্যাগ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
ছাত্রদের তোপের মুখে এক সময় পদত্যাগ করবেন বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের ওপর চাপিয়ে দেন।
অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আমার মনে হয় না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির কোনো প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে। বুয়েটেও নিষিদ্ধ করা উচিত।
কবে নিষিদ্ধ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে বসে লিখে দিলে কিংবা বলে দিলে হয়ে যাবে না।
তবে ভিসি মহোদয়ের সঙ্গে এসব বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব কথা বলবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে, বুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম মাসুদ বলেছেন, অতীতে যেসব বেআইনি ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর কোনো বিচার হয়নি। তারই খেসারত হিসেবে আজকের এই হত্যাকাণ্ড। আগের ঘটনার কোনো ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা ঘটত না। শিক্ষক সমিতির সদস্যরা গতকাল ভিসির সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেছিলেন ব্যবস্থা নেবেন। তারপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষক সমিতি ছাত্রদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একমত। এটি যৌক্তিক বলে মনে করে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।