করোনাভাইরাসের বিষয়টি সরকার পুরোপুরি গোপন করতে চেয়েছিল: ফখরুল
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i78118-করোনাভাইরাসের_বিষয়টি_সরকার_পুরোপুরি_গোপন_করতে_চেয়েছিল_ফখরুল
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার করোনাভাইরাসের বিষয়টি পুরোপুরি গোপন করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
(last modified 2026-06-16T05:39:17+00:00 )
মার্চ ০৯, ২০২০ ১২:৪৮ Asia/Dhaka
  • ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দুটি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দুটি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার করোনাভাইরাসের বিষয়টি পুরোপুরি গোপন করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ (সোমবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দুটি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সরকার এই করোনাভাইরাস নিয়ে এত দিন কোনো কিছুই বলেনি এবং তারা খুঁজেও পায়নি। কী কারণে খুঁজে পায়নি, জানি না। হঠাৎ করে কালকে খুঁজে পেয়েছে। এটা কি এমন, যখন বিদেশি অতিথিরা আসতে অপারগতা প্রকাশ করলেন, তখনই এই তিনজনের নাম এলো। তারা পুরোপুরি জিনিসটাকে গোপন করার চেষ্টা করেছে। এবং আমাদের এই রোগের, এই ব্যাধির বাংলাদেশে অনেক আগেই আসছে বলে অনেকেরই ধারণা। এবং সেই ধারণাগুলো সত্যিকার অর্থে এখন প্রমাণিত হচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা মনে করি করোনাভাইরাসের বিষয়ে সরকারের যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সেই ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হয়নি। অবিলম্বে সমস্ত এয়ারপোর্টে, নৌবন্দর, স্থলবন্দরগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণ থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন এবং সচেতনতা মানুষের মধ্যে জাগানো। চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্ধারিত করে দেওয়া দরকার।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যে মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে, এ ধরনের মামলায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মুক্ত আছেন, জামিন পেয়েছেন। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, একই মামলায় বিচার বিভাগ অন্যদের মুক্তি দেন, তখন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন না কেন?’

পিরোজপুরে বিচারক বদলির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কোথায় বিচার বিভাগ? আইন সবার জন্য সমান অধিকার। সে অধিকারগুলো কোথায়? গণতন্ত্রই যদি না থাকে, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তাহলে সেখানে কিছুই গড়ে উঠে না। আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই স্বপ্ন সম্পূর্ণভাবে চুরমার হয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কী ধরনের অশালীন কথাবার্তা। স্বয়ং একজন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪০০ টাকার মেজর তার একদিনের একটা বাঁশির ফুঁয়ে স্বাধীনতা আসেনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, একজন মেজরের বাঁশির সুরে সমগ্র জাতি স্বাধীনতার জন্য এগিয়ে আসে। আপনারা তখন কেউ পালন করেছিলেন, কেউ আত্মসমর্পণ করেছেন।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অন্যকে অপমান করার মধ্য দিয়ে মহত্ত্ব গড়ে উঠে না। আজকে স্বাধীনতা যুদ্ধে যাদের অবদান আছে, তাদের স্বীকার করে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি, দুর্ভাগ্যক্রমে তারা অন্য কাউকে স্বীকার করতে চায় না। না স্বীকার করতে চান তাজউদ্দীন আহমদকে, জেনারেল ওসমানীকে, না শহীদ জিয়াউর রহমানকে। অন্যদের কথা বাদই দিলাম।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান, সাবেক উপচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মুসতাহিদুর রহমান, ডেইলি ফিন্যান্সিয়াল হেরাল্ডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল প্রমুখ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৯