করোনাভাইরাস
লকডাউন শিথিল করে দেশকে ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে সরকার: বিএনপি
-
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি আজ অভিযোগ করেছে, করোনাভাইরাসের মহাবিপর্যয়ের মধ্যে লকডাউন শিথিল করে দেশকে ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে সরকার। এ অবস্থায় করোনায় মৃত্যুর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন। বিএনপির করোনা পর্যবেক্ষণ সেল থেকে পাওয়া সব শেষ তথ্য তুলে ধরার জন্য এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ এখন ঊর্ধ্বমুখী। সরকার করোনা মোকাবিলায় সব দিক থেকে ব্যর্থ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা অপ্রতুল। ৯০ ভাগ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহ করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিপদে ফেলে দিয়েছে সরকার। তাই, এখন তারা রোগীদের চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের ব্যর্থতায় বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। লকডাউন শিথিল করে দেশকে ভয়ংকর বিপজ্জনক অবস্থায় ফেলে দিয়েছে সরকার। দাম্ভিকতা ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অদূরদর্শীতা, সমন্বয়হীনতা, উদাসীনতা ও একগুঁয়েমি মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং করোনায় মৃত্যুর দায় সরকারকেই নিতে হবে।’
‘সরকারের সমন্বয়হীনতা ও উদাসীনতায় এখন প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে’ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মানুষের জীবন বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। চীনে যখন করোনা মহামারি শুরু হয়, তখন সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তখন থেকে তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিলে আজ লাশের সারি দীর্ঘ হতো না। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা না থাকায় সরকার এমন আচরণ করেছে। মানুষকে বাঁচাতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তারা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে তাদের বাঁচানোর ব্যবস্থা নিত সরকার।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৪৯ জনের, আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৮৭০ জন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংখ্যা আরও ৪০ গুণ বেশি হবে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে করোনা উপসর্গে এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় ১১০০ জন।’
কোভিড-১৯ মৃত্যুবরণ করা চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য, ব্যাংকার, পেশাজীবী, শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।