বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ: আর্থিকভাবে দুর্বল হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ, বাড়ছে সামাজিক অশান্তি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i80576-বাংলাদেশে_করোনার_প্রকোপ_আর্থিকভাবে_দুর্বল_হচ্ছে_নিম্ন_আয়ের_মানুষ_বাড়ছে_সামাজিক_অশান্তি
বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে শতকরা ৬২ ভাগ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং তাদের আয় কমেছে শতকরা ৭৬ ভাগ। গতকাল (মঙ্গলবার) ঢাকায় এক জুম সম্মেলনে প্রকাশিত ব্র্যাকের র‍্যাপিড পারসেপশন সার্ভে বা চটজলদি ধারণা জরিপে ওই চিত্রই ফুটে উঠেছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ১০, ২০২০ ১৪:১৩ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে শতকরা ৬২ ভাগ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং তাদের আয় কমেছে শতকরা ৭৬ ভাগ। গতকাল (মঙ্গলবার) ঢাকায় এক জুম সম্মেলনে প্রকাশিত ব্র্যাকের র‍্যাপিড পারসেপশন সার্ভে বা চটজলদি ধারণা জরিপে ওই চিত্রই ফুটে উঠেছে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের কর্মীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও পেশার ২,৩১৭ ব্যক্তির ওপর এ জরিপ পরিচালানা করেন। শতকরা ৭৯ ভাগের সঙ্গে ফোনে এবং ২১ ভাগের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনার ভিত্তিতে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ  রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ২৮ ভাগ উত্তরদাতা বলেছেন, করোনা তাদেরকে আর্থিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছে। এছাড়া ৫১ ভাগ বলেছেন, করোনায় তাদের পরিবারের আয় শূণ্যে নেমে গেছে। 

ব্র্যাকের জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপ ছিল অপ্রতুল। শতকরা মাত্র ১৪ ভাগ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা সরকারি ত্রাণ পেয়েছেন কিন্তু ৬৯ ভাগই বলেছেন, তারা কোন ত্রাণ পাননি। ত্রাণ না পাওয়ার হার শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বেশি। গ্রামের ৭২ ভাগ উত্তরদাতা এবং শহরের ৬২ ভাগ বলেছেন তারা ত্রাণ পাননি।

বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন

এ প্রসঙ্গে বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন রেডিও তেহরানকে বলেন, বিপুল সংখ্যক অভাবী মানুষের তুলনায় সরকারি ত্রাণ যে শুধু অপ্রতুল তাই নয়; বরং মাথাপিছু হিসেব এটা মনে হবে দারিদ্রকে নিয়ে তামাসা করা হচ্ছে। তিনি অর্ধাহার অনাহারে থাকা দরিদ্র শ্রেণীর মানুষদের আগামী কয়েকমাস খাদ্য সাহায্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার দাবী জানান। তবে দরিদ্রদের সহায়তা কার্যক্রমকে দলীয় পক্ষপাত ও দুর্নীতিমুক্ত রাখারও দাবী করেন এ বাম নেতা।

ওদিকে ব্র্যাক জরীপে অংশ নেয়া ৬৬ ভাগ উত্তরদাতা আশা প্রকাশ করেছেন যে, অভাবের সময় সরকার তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেবে। তারা নগদ অর্থ বিতরণ, লকডাউন সম্প্রসারণ এবং প্রতি জেলায় টেস্ট এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার  দাবী করেছেন।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে

ব্র্যাক জরিপে আরো ফুটে উঠেছে যে, করোনাকালে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বাংলাদেশেও। প্রায় ১১ ভাগ উত্তরদাতা বলেছেন যে, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়ে গেছে। অবশ্য শতকরা ৫৮ ভাগই বলেছেন যে, নারীর বিরুদ্ধে এই সহিংসতার মূলে রয়েছে করোনাকালে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ।

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শ্যামলী শীল রেডিও তেহরানকে বলেছেন, করোনাজনিত অর্থনৈতিক চাপের কারণেই মূলত পারিবারিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন নারীরা। তাছাড়া এ সময় নারীদের ওপর সাংসারিক কাজের চাপ বেড়ে যাবার কারণে তাদের আচরণেও অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে; যেটা পুরুষরা অনেক ক্ষেত্রে মেনে নিতে অভ্যস্ত নয়। সেখান থেকেও নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

তবে ব্র্যাক রিপোর্ট একটা কৌতূহল উদ্দীপক তথ্যও দিয়েছে। ১০ ভাগ নারীর তুলনায় শতকরা ১২ ভাগ পুরুষ বলেছেন, একটানা ঘরে আটকে থাকা, কর্মহীন থাকা এবং হাতে টাকা না থাকার কারণে  তারাও তাদের পরিবারে নির্দয় আচরণের শিকার হয়েছেন।#

 

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।