ধর্ষণের ১৬ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণার নজির তৈরি, আসামির যাবজ্জীবন
বাংলাদেশের বাগেরহাটে সাত বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণ মামলায় দ্রুততম বিচারের নজির তৈরি হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনার মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হয়েছে। আর অভিযোগ গঠনের এক সপ্তাহের মাথায় বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম আজ (সোমবার) দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে একমাত্র আসামি আব্দুল মান্নান সরদারকে (৫৩) দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবদুল মান্নান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মাকড়ঢোন আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় পিতৃহীন সাত বছর বয়সী এক শিশু তার মামাবাড়িতে থেকে বড় হচ্ছিল। গত ৩ অক্টোবর বিকেলে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আবদুল মান্নান সরদার শিশুটিকে চকলেট-বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে এই ঘটনা জানাজানি হলে সেদিন রাতেই মেয়েটির মামা মোংলা থানায় আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন এবং পুলিশ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোংলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ মুখার্জি ধর্ষণের সত্যতা পেয়ে আট দিনের মাথায় আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোপাল চন্দ্র পাল জানান, মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে পাঠান। আদালতের বিচারক গত ১১ অক্টোবর মামলাটি আমলে নিয়ে পরদিন অভিযোগ গঠন করেন। ১৩ অক্টোবর বাদীপক্ষের মোট ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। ১৪ অক্টোবর মামলার সংশ্লিষ্ট সাক্ষী চিকিৎসক, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নারী পুলিশ সদস্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। ১৫ অক্টোবর আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। গতকাল বিকেলে বিচারক দীর্ঘ সময় বাদী ও বিবাদীপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ সোমবার রায়ের দিন ঘোষণা করেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।