লেবাননে আটকে পড়া ১২ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i85460-লেবাননে_আটকে_পড়া_১২_হাজার_বাংলাদেশি_নাগরিক_ফিরিয়ে_আনার_সিদ্ধান্ত
ভূমধ্যসগরীয় দেশ লেবাননে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে আপাতত ১২ হাজার জনকে জরুরী ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
(last modified 2026-03-01T10:43:34+00:00 )
ডিসেম্বর ২০, ২০২০ ১৬:৫৬ Asia/Dhaka
  • লেবাননে আটকে পড়া ১২ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত

ভূমধ্যসগরীয় দেশ লেবাননে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে আপাতত ১২ হাজার জনকে জরুরী ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

লেবাননে বিরাজমান রাজনৈতিক ও আর্থনৈতিক সংকটের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। লেবাননে চলমান রাজনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি,স্থানীয় মুদ্রা মানের রেকর্ড মাত্রার পতন এবং অর্থনৈতিক মন্দাজনিত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অবশিষ্ট বাংলাদেশিদেরও ফিরতে হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানের ফ্লাইটে ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৭৮৮ বাংলাদেশিকে লেবানন থেকে ফেরত আনা হয়েছে। জরুরিভাবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে লেবানন থেকে লোক আনতে হলে অন্য রুটের ফ্লাইট ডাইভার্ট করে আনতে হবে, সে ক্ষেত্রে টিকিটের মূল্য তুলনামূলকভাবে কম পড়বে (৪০০ মার্কিন ডলার)। তবে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তাদের চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে আনতে হবে, যার জন্য টিকিটের মূল্য ৪৫০ মার্কিন ডলার হতে পারে।

তবে,  আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে একমুখী ফিরতি  বিমান ভাড়া জনপ্রতি ৪০০ ডলারের মধ্যে রাখারও প্রস্তাব করা হয়। এ সব ফিরতি যাত্রীদের  টিকিটের মূল্য  সরকার নাকি ভুক্তভোগী পরিশোধ করবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশেষ করে অনিবন্ধিত কর্মী যারা প্রিমিয়ামের অর্থ জমা করেনি, তাদের টিকিটের মূল্য পরিশোধে জোর আপত্তি তুলেছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হিসেবে বতর্মানে বৈধ-অবৈধ মিলে দেড় লাখের মতো বাংলাদেশি শ্রমিক লেবাননে আছেন। তাদের অধিকাংশই অবৈধ অবস্থায় আছেন।

আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশে ফিরতে উদগ্রীব বাংলাদেশি কর্মীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করবে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস। সেখানে স্বতন্ত্র ফর্মে প্রত্যাবাসনে ইচ্ছুক প্রত্যেক কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং তা ভেরিফিকেশনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। তালিকাভুক্ত বাংলাদেশিদের মধ্যে যাদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ছিল, তাদের জন্য ডেটা প্রিজার্ভ করা আছে। তাদের বাংলাদেশ দূতাবাস সরাসরি ট্রাভেল পারমিট বা টিপি ইস্যু করতে পারবে।

তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে অবশ্যই ঢাকার ক্লিয়ারেন্সের জন্য দূতাবাসকে অপেক্ষা করতে হবে। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের বিষয়ে তদন্ত করবে এবং প্রত্যেকের বিষয়ে রিপোর্ট করবে। পুলিশের ছাড়পত্র সাপেক্ষে দূতাবাস তাদের টিপি ইস্যু করবে। তবে টিপি যে ফরম্যাটেই ইস্যু হোক না কেন, অবশ্যই প্রত্যেক কর্মীকে বিধি মোতাবেক কোভিডমুক্ত সার্টিফিকেট অথবা টেস্ট নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে আসতে হবে।

দেশে ফিরতে উদগ্রীব বাংলাদেশি কর্মীদের তালিকা এবং তথ্য পাওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমান ভাড়া করা হবে এবং ফিরতি ফ্লাইটের সিডিউল ঘোষণা করা হবে। #

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান / বাবুল আখতার/ ২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।