হজযাত্রীদের জন্য বাইরে থেকে আর বিমান আনতে হবে না: শেখ হাসিনা
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে সদ্য যুক্ত হওয়া সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত সম্পূর্ণ নতুন দ্বিতীয় ও তৃতীয় ড্যাশ ৮-৪০০ ‘আকাশতরী’ ও ‘শ্বেতবলাকা’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ (রোববার) সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে অনুষ্ঠিত হয়। উড়োজাহাজ দুটি বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে কেনা তিনটি উড়োজাহাজের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘হজ যাত্রীদের জন্য আগে বাইরে থেকে বিমান নিয়ে আসতে হতো। এখন আর সেটার প্রয়োজন হবে না, আমাদের নিজস্ব বিমানেই এখন আমরা হাজিদের খুব ভালোভাবে পাঠাতে পারি এবং ফেরত আনতে পারি।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দুটি উড়োজাহাজ ‘আকাশতরী’ ও ‘শ্বেতবলাকা’র উদ্বোধন করছি। এর ফলে আমরা আমাদের আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে পারব। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি এই বিমানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকালকার যুগ, আপনারা জানেন গ্লোবাল ভিলেজ হয়ে গেছে। এখন যারাই বিমানে যায় ওয়াইফাই কানেকশন, ইন্টারনেট সার্ভিস সবাই চায়। নতুন বিমানগুলোতে এ ধরনের সুযোগ আমরা রেখেছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এয়ারলাইনসের সঙ্গে যারা জড়িত, সবাইকে অনুরোধ করব, এটা আমাদের দেশ। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি। এদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা সবারই অপরিহার্য, দায়িত্ব ও কর্তব্য। দেশ যত উন্নত হবে, যত অর্থনৈতিকভাবে আমরা সাবলম্বী হতে পারব। আমাদের যাত্রীসেবা যত উন্নত করতে পারব, তত দেশের লাভ হবে, দেশের মানুষের লাভ হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন, সেটাই আমরা চাই।’
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কানাডার বিখ্যাত এয়ারক্রাফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডি হ্যাভিল্যান্ড নির্মিত অত্যাধুনিক ৭৪ সিট সংবলিত নতুন ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ। ড্যাশ-৮ বিমানটি খুব ছোট রানওয়ে থেকে উড্ডয়নক্ষম ও স্বল্প খরচে নিরবচ্ছিন্ন ও মসৃণ উড্ডয়নের জন্য বিখ্যাত। এই মডেলের বিমানগুলোতে কেবিন নয়েজ সাপ্রেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব এবং অধিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ এ উড়োজাহাজে রয়েছে হেপা ফিল্টার প্রযুক্তি যা মাত্র চার মিনিটেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ অন্যান্য জীবাণু ধ্বংস করার মাধ্যমে উড়োজাহাজের অভ্যন্তরের বাতাসকে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ করে যা যাত্রীদের যাত্রাকে করে তোলে অধিক নিরাপদ। এ ছাড়া এ উড়োজাহাজে বেশি লেগস্পেস, এলইডি লাইটিং এবং প্রশস্ত জানালা থাকার কারণে ভ্রমণ হয়ে উঠবে অধিক আরামদায়ক ও আনন্দময়।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।