লকডাউন: ঢাকা ছাড়ার হিড়িক-টার্মিনালে মানুষের ঢল, শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার দাবি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i89606-লকডাউন_ঢাকা_ছাড়ার_হিড়িক_টার্মিনালে_মানুষের_ঢল_শ্রমজীবী_মানুষের_জীবিকার_দাবি
বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির কারণে আগামীকাল সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন এবং সমন্বয় অধিশাখা থেকে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ০৪, ২০২১ ১৪:৩৬ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির কারণে আগামীকাল সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন এবং সমন্বয় অধিশাখা থেকে।

রোববার (৪ এপ্রিল) জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপনে ১০ টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের গণপরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে, পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা, জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া,বিদেশগামী/বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

এর আগে করোনা সংক্রমণের মুখে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত 'সাধারণ ছুটি'ঘোষণা করেছিল সরকার। পরে দফায় দফায় ওই ছুটি বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। সে হিসেবে সরকারিভাবে গতকালই প্রথম 'লকডাউনের'ঘোষণা এলো।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকের ধারণা,আপাতত সাত দিন লকডাউনের কথা সরকারিভাবে বলা হলেও ধাপে ধাপে এটি বাড়বে। কারণ সাত দিন লকডাউনের বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মত নয়। সুতরাং এটি বাড়াতে হবে। তাদের অভিমত,কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ আবার কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে লকডাউনের সিদ্ধান্তও বৈজ্ঞানিক নয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের যে ভাবনা থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে,এতে তা কমবে না। বরং নানা অব্যবস্থাপনা তৈরি হতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত- দুটিই বিপর্যস্ত হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

এদিকে,লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে এমন আশঙ্কায় রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। আগামী সোমবার থেকে লকডাউন শুরুর ঘোষণা জানার পর শনিবার বিকেল থেকে ভিড় বেড়ে যায় ট্রেন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালগুলোতে।

গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে-এ শঙ্কায় শনিবার বিকেলের পর রাজধানীর গাবতলী,সায়েদাবাদ ও মহাখালী টার্মিনালের দিকে মানুষের ঢল নামে।

ভিড় ছিল সদরঘাটেও। সন্ধ্যার পর রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষের ঢল নামে লঞ্চ টার্মিনালে।

তবে,অপেক্ষাকৃত ভিড় কম ছিল কমলাপুর স্টেশনে। আসনের অর্ধেক টিকিট দেওয়া হচ্ছে ট্রেনে। বন্ধ রয়েছে স্ট্যান্ডিং টিকিটও। সে কারণে কমলাপুরে যাত্রী বাড়লেও ভিড়ের চাপ তীব্র ছিল না।

এদিকে,লকডাউনের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন কর্মজীবী মানুষেরা তাদের জীবন জীবিকা চলার মত বিকল্প ব্যাবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার ঘোষিত লকডাউনকালে শ্রমজীবী হতদরিদ্রদের খাদ্যনিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং শ্রমিকদের ঝুঁকিভাতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বামপন্থি দলগুলো। একইসঙ্গে অবিলম্বে সব নাগরিকের বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা ও টিকা নিশ্চিত করা এবং টিকা নিয়ে বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানিয়েছেন দলগুলোর নেতারা।

শনিবার পৃথক বিবৃতিতে বাম সংগঠনের নেতারা অব্যাহত গতিতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে  বলেন,সরকারের আত্মসন্তুষ্টি ও অবহেলার কারণেই করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার সোমবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করলেও এজন্য পূর্বপ্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। আর সরকারের এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার দাবি জানান নেতারা।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/৪

  • বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।