১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউনের চিন্তা চলছে: ওবায়দুল কাদের
-
ওবায়দুল কাদের
আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ (শুক্রবার) সকালে ওবায়দুল কাদের তাঁর সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। সেই সঙ্গে বাড়ছে জনগণের অবহেলা ও উদাসীনতা। এমতাবস্থায় সরকার জনস্বার্থে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে।’
চলমান এক সপ্তাহের লকডাউনে জনগণের উদাসীন মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় সরকার সারা দেশে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে গত ৪ এপ্রিল। গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে ‘লকডাউন’ শুরু হয়। আগামী ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত থাকবে এই ‘লকডাউন’। ‘লকডাউনে’ গণপরিবহন ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও গত বুধবার শর্ত সাপেক্ষে সরকার গণপরিবহনে চলাচলের অনুমোদন দেয়। আর আজ শুক্রবার থেকে শপিংমল ও দোকানপাট খোলা হয়েছে।
তবে ‘লকডাউন’ শুরুর পর থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পদে পদে লঙ্ঘিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। সবার মধ্যে উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। ব্যাপকভাবে গণপরিবহণ চলার কারণে অনেক রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন। কাঁচাবাজার, মহল্লার দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের জটলা দেখা যাচ্ছে, সেখানে নেই কোনো সামাজিক দূরত্ব। লকডাউনের মধ্যেই অনেক জায়গায় মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও কোথাও এই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এমন অবস্থায় সরকার যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল তা থেকে নিজেরাই পিছু হটেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অবশ্য সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘লকডাউন কার্যকর করার জন্য সরকার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কঠোর হতে চায়নি। জনগণ যাতে সচেতন হয় সে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।