আরও ৬৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৭৪৬২
বাংলাদেশে ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন, বন্ধ থাকবে সব অফিস
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মারাত্মক বেড়ে যাওয়ায় আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সাতদিন সারাদেশে জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ এপ্রিল থেকে ৭ দিনের কঠোর লকডাউন। এই সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া সব অফিস ও গার্মেন্টস বন্ধ থাকবে। লকডাউনে কোনো ধরনের যানবাহন চলবে না।
তিনি বলেন, “এই লকডাউনে শুধু জরুরি সেবা চালু থাকবে। কোনোভাবেই মানুষ ঘরের বাইরে আসতে পারবে না। রবিবার প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।”
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই কঠোর লকডাউন। করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানোর জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।
এর আগে, আজ সকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে জানান, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় পরিপেক্ষিতে সরকার আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের চিন্তা করছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, “দেশের করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। বেড়েছে জনগণের অবহেলা ও উদাসীনতা। এমতাবস্থায় সরকার জনস্বার্থে ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে।”
চলমান এক সপ্তাহের লকডাউনে জনগণের উদাসীন মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন দেওয়া হয় যা ১১ এপ্রিল রাতে শেষ হবে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি
এদিকে, লকডাউনের মধ্যেও গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬২ জন। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৪ জনে। মোট মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ৫৮৪ জনের।
শুক্রবার (৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫১১ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৪১ জন।
এ সময়ে ৩১ হাজার ৮৭৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩১ হাজার ৫৬৪টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪১২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।