বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় গত ১০ দিনে জেলার ৪ বছর বয়সী এক শিশুসহ ৫৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলায় এবারই প্রথম ৪ বছর বয়সের কোনো শিশু করোনা আক্রান্ত হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১০ জুন) পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনায় ৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ওই শিশুও একজন। শিশুটির বাড়ি জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার সদর ইউনিয়নে।
এ ছাড়া জেলায় এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৮৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ২২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২২ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এর আগে, পশ্চিমের সীমান্ত জেলা নওগাঁর সাপাহারে আট মাস বয়সী এক শিশু করোনা সংক্রমণে মারা যায়। সাপাহার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, গত ৩১ মে সকাল ৭টার দিকে সাপাহার থানার এক নারী পুলিশ সদস্য তার ৮ মাস বয়সী ডায়রিয়া আক্রান্ত ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করান। দু’দিন পরে ২ জুন শিশুটি মারা যায়। শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুর কারণ নিয়ে সংশয় দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবে পাঠায়। বুধবার শিশুটির করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়াল
এদিকে, সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩০ ও নারী ১৩ জন। মৃত ৪৩ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৬, বেসরকারি হাসপাতালে ৬ এবং বাসায় একজন মারা যান। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩২ জনে দাঁড়ালো।
আজ (শুক্রবার) স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি ৫১০টি ল্যাবরেটরিতে ১৮ হাজার ৭৭৭টি নমুনা সংগ্রহ ও ১৮ হাজার ৫৩৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় নতুন রোগী শনাক্ত হন ২ হাজার ৪৫৪ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আট লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ জন।
নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে আবারো উদ্বেগ বাড়ছে
করোনাভাইরাস মহামারিতে এখন বাংলাদেশে একদিকে টিকার সংকট আর অন্যদিকে ডেল্টা বা ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়ান্ট ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে আবারো উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েকদিন ধরে মৃত্যু ও সংক্রমণ উর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে এখন কোন ধরনের করোনাভাইরাস বেশি ছড়াচ্ছে- সেটি খুজে দেখতে সংক্রমিত বিভিন্ন এলাকার ৫০টি নমুনার জিনম সিকোয়েন্সিং করে চারটি ধরন পাওয়া গেছে। চারটি ধরনের মধ্যে ৮০ শতাংশই ইন্ডিয়ান বা ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট।
ঢাকার বাইরে সীমান্তবর্তীসহ অর্ধেকের বেশি জেলা শহরে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণের উর্ধ্বগতির এ বাস্তবতায় প্রায় দেড় মাস ধরে টিকা কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া প্রায় দেড় মিলিয়ন মানুষের জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ২য় ডোজ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে চীনের কাছ থেকে দেড় কোটি ডোজ টিকা কিনতে গিয়ে তার দাম ফাঁস করে দেয়ায় আরেক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
টিকা কবে আসবে?
টিকা নিয়ে সরকারি আশ্বাসে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন সাধারণ মানুষ, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের।
আজ দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জিএম কাদের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক টিকা কূটনীতিতে সাফল্য পাচ্ছে না বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিদিন টিকা পাওয়ার ব্যাপারে আশার বাণী শোনানো হচ্ছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনও সাফল্য নেই।’
বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের অভিযোগ- ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে টিকা আমদানির কারণেই টিকা পাওয়ার বিকল্প উৎস রাখা হয়নি। এতে একটি কোম্পানি টিকা আমদানি করে বেশ কয়েক কোটি টাকা আয় করেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী টিকা পাওয়া যায়নি। আবার বিকল্প কোনও উৎস না থাকায় টিকা প্রয়োগের স্বাভাবিক কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।’
এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন আজ (শুক্রবার)জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ লাখ টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’ তবে কবে নাগাদ এই টিকা আসবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।