খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো দাবি বিএনপির
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i93542-খালেদা_জিয়ার_মুক্তি_ও_সুচিকিৎসার_জন্য_বিদেশে_পাঠানো_দাবি_বিএনপির
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুচিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ২২, ২০২১ ০৯:১০ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুচিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ (মঙ্গলবার) গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। গত শনিবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটি বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, খালেদা জিয়া শুধু একজন বয়স্ক রাজনীতিবিদ নন, তিনি এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা কিংবদন্তীর মতো। তিন বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। দেশে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা প্রয়োজন। সব প্রকার রাজনৈতিক সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা এ দেশের মানুষের প্রাণের দাবি।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া ৫৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে করোনাভাইরাস মুক্ত হলেও কোভিড পরবর্তী কয়েকটি জটিলতায় ভুগছেন এবং তিনি কোনো মতেই ঝুঁকিমুক্ত নন। তার কিডনি এবং লিভারের সমস্যা বেশ জটিল। তিনি দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকার কারণে কোনো চিকিৎসা না হওয়ায় হার্ট, লিভার ও কিডনির সমস্যা বেশ জটিল হয়ে উঠে।

বেগম খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া হাসপাতালে থাকাকালে দুইবার ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিল বলে দাবি করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠলেও হাসপাতালে দীর্ঘদিন অবস্থানকালে সেই ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ আবারও হতে পারে বলে চিকিৎসকরা মনে করেন। অন্যদিকে হাসপাতালে নন কোভিড এরিয়ায় কয়েকজন নার্স এবং চিকিৎসক ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রাখা সমীচীন মনে করেননি। সেই কারণে বাসায় চিকিৎসার ব্যবস্থা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের আয়োজন সম্পূর্ণ করে বাসায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন- খালেদা জিয়ার লিভার ও অন্যান্য জটিলতার চিকিৎসা বিদেশে কোনো উন্নত কেন্দ্রে করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে যার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। একইসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসভবন ‘ফিরোজা’র আরও আটজন ব্যক্তিগত স্টাফও করোনায় আক্রান্ত হন। তাঁরা সবাই বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২৮ এপ্রিল খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এই মেডিকেল বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার। এর মধ্যে ৩ মে খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৬ মে তিনি করোনামুক্ত হন। এরপরও তাঁর শারীরিক জটিলতা থাকায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত ১৯ জুন তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।