শততম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i94918-শততম_টি_টোয়েন্টিতে_জিম্বাবুয়েকে_৮_উইকেটে_হারাল_বাংলাদেশ
হারারেতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের শততম টেস্ট ও ওয়ানডেতে জয়ের পর এবার টি–টোয়েন্টিতেও জয় নিশ্চিত করল টাইগাররা।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুলাই ২৩, ২০২১ ০৪:০৩ Asia/Dhaka
  • শততম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ

হারারেতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের শততম টেস্ট ও ওয়ানডেতে জয়ের পর এবার টি–টোয়েন্টিতেও জয় নিশ্চিত করল টাইগাররা।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫২ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। জিম্বাবুয়ের ছুঁড়ে দেওয়া ১৫৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে দুই ওপেনার সৌম্য সরকার এবং নাইম শেখ। দুইজনই তুলে নেন অর্ধশতক। 

ইনিংসের ১৪তম ওভারের প্রথম বলে অর্ধশতকপূর্ণ করেই ফেরেন সৌম্য। অর্ধশতকের পর ডাবল নিতে গিয়েই রান আউট হয়ে ফিরতে হয় সৌম্যকে। তবে তাঁর আগে নিজের ৪র্থ অর্ধশতকের দেখা পেয়ে যান সৌম্য। তাতেই উদ্বোধনী ১০২ রানের জুটি ভাঙে বাংলাদেশের। 

৪৫ বলে অর্ধশতকপূর্ণ করতে সৌম্য ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে মারেন ২টি ওভার বাউন্ডারিও। ৪৯ রানে খেলতে থাকা সৌম্য অর্ধশতকপূর্ণ করতে সিঙ্গেল নিলেই চলতো। কিন্তু ডাবল নিতে গিয়ে জিম্বাবুয়ের উইকেটরক্ষক চাকাবাহর দারুণ সিদ্ধান্তে রানআউট হন সৌম্য। 

এরপর অর্ধশতক তুলে নেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাইম শেখ। ইনিংসের ১৬তম ওভারে নাইম শেখ নিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অর্ধশতক তুলে নেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪০ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। দুর্দান্ত অর্ধশতক তুলে নিতে নাইম ৪টি বাউন্ডারি হাঁকান। 

সৌম্য ফেরার পরে উইকেটে আসেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে অধিনায়ক খুব বেশি সময় উইকেটে টিকতে পারেননি। ১২ বলে ১৫ রান করে ফেরেন রানআউট হয়ে। এরপর নুরুল হাসান সোহানকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটা সারেন নাইম। ৫১ বলে ৬ চারে ৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম। ৮ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ১৪ রান করেন সাড়ে চার বছর পর এই সংস্করণে খেলতে নামা নুরুল হাসান সোহান। 

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। তবে এরপর রেগিস চাকাবাহকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান ওয়েসলি মাধেভের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারের আগেই জিম্বাবুয়েকে ১৫২ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। 

শুরুর ধকল কাটিয়ে দলের হাল ধরেন মাধেভের এবং চাকাবাহ। দ্বিতীয় উইকেটে এই জুটি থেকে আসে ৬৪ রান। মাত্র ৩৬ বলের তৃতীয় উইকেটের জুটি ভাঙে মাধেভের ২৩ বলে ২৩ রান করে ফিরলে। মাধেভেরকে কট অ্যান্ড বল করেন সাকিব আল হাসান। এর আগে মারুমানিকে সৌম্য সরকারের তালুবন্দি করেন মোস্তাফিজুর রহমান। 

৭৪ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ডিওন মায়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে বড় স্কোরের দিকেই ব্যাট ছোটান চাকাবাহ। তবে তাকে খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে দেননি উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। ব্যক্তিগত ৪৩ রানে সোহানের বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্তে রান আউট হয়ে ফিরতে হয়ে চাকাবাহকে। ২২ বলে ৫টি চার ও দুটি ছক্কায় দারুণ এই ইনিংসটি সাজান জিম্বাবুইয়ান এই টপ অর্ডার ব্যাটার। 

৯১ রানে চাকাবাহ ফেরার পর স্কোরবোর্ডে মাত্র ১ রান যোগ হতেই ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে। এবার আঘাত হানেন তরুণ টাইগার পেসার শরিফুল ইসলাম। ৯২ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর আর ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং অর্ডার। 

১০ ওভারে ৯১ রান তোলা জিম্বাবুয়ে ১১তম ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে। দলীয় ১১১ রানের মাথায় মুসাকন্দাকে এলবি'র ফাঁদে ফেলেন সৌম্য। এরপর বিপদজনক হয়ে ওঠা মায়ার্সকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান শরিফুল। মায়ার্স ২২ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে লুক জংজির ১৬ বলে ১৮ রানই ছিল জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের সর্বোচ্চ স্কোর। আর তাতেই ১৯তম ওভারে ১৫২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। 

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। আর দুটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শরিফুল ইসলাম। এছাড়া সাকিব আল হাসান এবং সৌম্য সরকার নেন একটি করে উইকেট। 

২০০৬ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। সেদিন টাইগারদের প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। ২২ জুলাই এই ফরম্যাটে নিজেদের ১০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রতিপক্ষ সেই জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীসের মতো এই ম্যাচেও জয়ের স্বাদ এনে দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। 

এই ১০০ ম্যাচের মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৫ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ১২টি করে খেলেছে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ভারত আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছে ১১টি করে ম্যাচ। ১০টি ম্যাচ খেলেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬টি করে। এছাড়া আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া নেদারল্যান্ডের, ওমান, কেনিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল, স্কটল্যান্ড ও হংকংয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নেমছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।#