মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড ২৬৪: আক্রান্তদের ৯৮ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমিত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i95546-মৃত্যুর_সর্বোচ্চ_রেকর্ড_২৬৪_আক্রান্তদের_৯৮_শতাংশই_ডেল্টা_ভ্যারিয়েন্ট_সংক্রমিত
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুর রেকর্ড ২৬৪তে পৌঁছে গেছে। আজকের এ সংখ্যা নিয়ে এ নিয়ে দেশে করোনায় সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৯০২ জন।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
আগস্ট ০৫, ২০২১ ১৪:৪৪ Asia/Dhaka
  • মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড ২৬৪: আক্রান্তদের ৯৮ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমিত

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুর রেকর্ড ২৬৪তে পৌঁছে গেছে। আজকের এ সংখ্যা নিয়ে এ নিয়ে দেশে করোনায় সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৯০২ জন।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ‌্য জানানো হয়েছে। আজ ৫ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৭৪৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ১২ শতাংশ। এ পর্যন্ত করোনা শনাক্তের গড় হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। করোনায় মৃতদের মধ‌্যে ঢাকা বিভাগের ৮৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৬ জন, রাজশাহী বিভাগের ১৯ জন, খুলনা বিভাগের ৩৫ জন, বরিশাল বিভাগের ১৬ জন, সিলেট বিভাগের ২৩ জন, রংপুর বিভাগের ১৮ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে  সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে,। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক  ৩২ জন এর  মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৮৫৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। ওদিকে,  খুলনা বিভাগে মৃত্যু কমেছে  কিন্তু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে । তাছাড়া  খুলনায় করোনার মাঝে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। তবেচট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হার কমেছে।

আক্রান্তদের ৯৮ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমিত

দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের ৯৮ শতাংশই বর্তমানে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা আক্রান্ত বলে আজকে প্রকাশিত এক গবেষনা ফলাফলে  জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ  জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণার ফল প্রকাশ করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ।প্রকাশিত গবেষণা তথ্য থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে গত ডিসেম্বরে ইউকে বা আলফা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমণ হার বেশি ছিল। পরে মার্চের রিপোর্ট অনুযায়ী সাউথ আফ্রিকান বা বেটা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমণ হার বেশি ছিল। এদিকে গত এক মাসের ৩০০ স্যাম্পলের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে দেখা যায় মোট সংক্রমণের প্রায় ৯৮ শতাংশ হচ্ছে ইন্ডিয়ান বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। ১ শতাংশ হচ্ছে সাউথ আফ্রিকান বা বেটা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমণ। যদিও গবেষণার প্রথম ১৫ দিনে এই সংখ্যা ছিল ৩ শতাংশ। একজন রোগীর ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে মরিসাস ভ্যারিয়েন্ট অথবা নাইজেরিয়ান ভ্যারিয়েন্ট (তদন্তাধীন ভ্যারিয়েন্ট)।

চলতি বছরের ২৯ জুন থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত সারাদেশব্যাপী রোগীদের ওপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় দেশের সব বিভাগের রিপ্রেজেন্টেটিভ স্যাম্পলিং করা হয়। গবেষণায় মোট ৩০০ কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীর স্যাম্পল থেকে নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাদের কো-মরবিডিটি রয়েছে যেমন- ক্যান্সার, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ডায়াবেটিস তাদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি ষাটোর্ধ্ব বয়সের রোগীদের দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হলে সেক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। যদিও এ গবেষণায় টিকার কার্যকারিতার বিষয়টি পর্যবেক্ষনাধিন রয়েছে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।