করোনা সংক্রমণ ও টিকা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i95760-করোনা_সংক্রমণ_ও_টিকা_নিয়ে_সরকার_ও_বিরোধী_দলের_পাল্টাপাল্টি_বক্তব্য
বাংলাদেশে ভয়াবহ করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় গত ৭ আগস্ট থেকে চার হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন, এক হাজার ৫৪টি পৌরসভায় এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৩৩টি ওয়ার্ডে একযোগে টিকাদান  কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ১০, ২০২১ ১৪:৪৯ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে ভয়াবহ করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় গত ৭ আগস্ট থেকে চার হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন, এক হাজার ৫৪টি পৌরসভায় এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৩৩টি ওয়ার্ডে একযোগে টিকাদান  কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ কর্মসূচীর চতুর্থ দিনেও  টিকাদান কেন্দ্রগুলিতে ছিল টিকাগ্রহনে আগ্রহী ২৫ বছরের উর্দ্ধ বয়সের  নারী-পুরুষদের উপচেপড়া ভীড়। কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকা নিতে রাত তিনটা-চারটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও বেশিরভাগ মানুষকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, যত মানুষ টিকা নিতে আসছে  কম-বেশি তার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ টিকা নিতে পেরেছেন।

দেশ ভয়ঙ্কর মৃত্যুপুরীর দিকে ধাবিত হচ্ছে : বিএনপি

এ অবস্থায় বিরোধী বিএনপি নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে  বলেছেন, রোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীর নাজুক পরিস্থিতিতে দেশ ভয়ঙ্কর মৃত্যুপুরীর দিকে ধাবিত হচ্ছে।

আজ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সরকারের অযোগ্যতা ও অপরিপক্বতার কারণে করোনা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন করোনা রোগী বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে অক্সিজেন চাহিদা, বিভিন্ন রকম ওষুধের চাহিদা।

 এ সময় দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার গণটিকার নামে গণ হয়রানি করছে। টিকা কেন্দ্রেই স্বাস্থ্যবিধি নেই। মানুষ বাঁচার জন্য টিকা নিতে গিয়ে আরও বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। যেখানে একটি কেন্দ্রে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ লোক টিকা নিতে পারে, সেখানে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হচ্ছে।

রিজভী বলেন, বিএনপির হাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নেই। বিএনপি নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে করোনা সুরক্ষা সামগ্রী অক্সিজেন ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিতরণ করে যাচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় সারাদেশে নেতাকর্মীরা করোনা রোগীদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

বিএনপির অপপ্রচার জনস্বার্থবিরোধী: তথ্যমন্ত্রী

এদিকে, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনার টিকা নিয়ে বিএনপির অপপ্রচার জনস্বার্থবিরোধী প্রচারণামূলক অপরাধ। তিনি আজ দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে টিকা নিয়ে শুরু থেকে বিএনপির সমালোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, জনস্বার্থে টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই টিকার বিরুদ্ধে যখন অপপ্রচার হয় সেটা সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনস্বার্থের বিরোধী হয়।

অর্থাৎ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবসহ এই টিকার বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন তারা জনস্বার্থবিরোধী কাজ করছেন এবং জনস্বার্থবিরোধী অপপ্রচার যদি কেউ চালায় সেটা বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

লকডাউন তুলে দেয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ক্রমাগতভাবে লকডাউন কখনই সমাধান নয়। আমাদের খেটে খাওয়া মানুষের এই দেশে জীবন এবং জীবিকার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এখন যেটি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, সেটি হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরা। মাস্ক না পরলে যাতে সহজে জরিমানা করা যায় সেটিও সরকার ভাবছে। স্কুল-কলেজ এখনই খুলছে না এবং এর পাশাপাশি গণটিকা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকাতেও করোনা আছে কিন্তু এরপরও জীবন স্বাভাবিক করার জন্য সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে

গণটিকা কর্মসূচি বুমেরাং হতে পারেঃ জিএম কাদের

অপরদিকে, সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, টিকা এবং গণটিকা নিয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই, অপরিকল্পিত এই গণটিকা কর্মসূচি বুমেরাং হতে পারে। গণটিকা কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় করোনা আরো ভয়াবহ রূপে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক অসুস্থ ও বৃদ্ধ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে নানা হয়রানির শিকার হয়েও টিকা পায়নি। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা সংগ্রহ করতে না পারলে, গণটিকা কর্মসূচি আবারো মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। এ নিয়ে জনমনে হতাশা বিরাজ করছে।

আজ এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, গণটিকা কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে। শারীরিক দূরত্বের বালাই নেই, মাস্ক নেই অনেকের মুখে। অভিযোগ উঠেছে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি হচ্ছে গণটিকা কর্মসূচিতে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা উচিৎ। 

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট চলমান গণটিকা কর্মসূচির আওতায় ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু, তিন দিনেই লক্ষমাত্রার প্রায় তিন গুন টিকা গ্রহণ করেছেন সাধারণ মানুষ।

কওমী মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি খেলাফত মজলিসের

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে কওমী মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন। এ ছাড়া গণটিকা দান কর্মসূচির ক্ষেত্রে  অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা বন্ধ করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আজ গণমাধ্যমে প্রদত্ত এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে প্রায় সকল ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে একদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা বিঘিœ হচ্ছে অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। বহু শিক্ষার্থী ঝড়ে পরার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-সহ বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে নেমে এসেছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়। তাই আর বিলম্ব না করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে হবে। প্রয়োজনে দুই শিফটে নির্ধারিত দূরত্বে ছাত্র/ছাত্রীদের আসন বিন্যাস কারা যেতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচির আওতাভুক্ত করুন।

খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ দাবী করেন,  বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসা ও হেফজখানাগুলো আগে খুলে দিন। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সিংহভাগ ছাত্র/ছাত্রী আবাসিক হলে থাকার কারণে বাইরে যাতায়াত কম থাকে বিধায় সংক্রমণ ঝুঁকিও কম থাকে। তাছাড়া করোনাকালীন সময়েও গত রমজানের পূর্ব পর্যন্ত মাদ্রাসাগুলো খোলা ছিল কিন্তু সেখানে ব্যাপক সংক্রমণের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, গণটিকা দান কর্মসূচিতে দেশে বিভিন্ন স্থানে অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার যে চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে এ বিষয়ে যথাযথ প্রস্তুতির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। টিকা দিতে গিয়ে মানুষ অবর্ননীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কেউ কেই দু’ তিন দিন কেন্দ্রে গিয়েও টিকা পাচেছ না। গণটিকা দান কর্মসূচির ক্ষেত্রে বিরাজমান এসব অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে অবিলম্বে সকল নাগরিকের জন্য মানসম্পন্ন করোনা টিকা নিশ্চিত করতে হবে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।