হাসপাতালগুলো আর রোগী সংকুলান করতে পারছে না-স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সরকারের পদত্যাগ চায় বিএনপি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i95840-হাসপাতালগুলো_আর_রোগী_সংকুলান_করতে_পারছে_না_স্বাস্থ্যমন্ত্রী_সরকারের_পদত্যাগ_চায়_বিএনপি
বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলায় সরকারের অসহায় অবস্থা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, হাসপাতালগুলো আর রোগী সংকুলান করতে পারছে না।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ১২, ২০২১ ১৩:২৭ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলায় সরকারের অসহায় অবস্থা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, হাসপাতালগুলো আর রোগী সংকুলান করতে পারছে না।

দেশের করোনা ও ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতির উত্তরণে সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমও বলেছেন,  হাসপাতালগুলোতে আর শয্যা বাড়ানো সম্ভব নয়। আমাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

দেশব্যাপী চলমান টিকা কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে পৌনে দুই কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। কোটি কোটি লোক নিবন্ধন করেছে। সবারই টিকা প্রয়োজন। আমাদের ৮০ শতাংশ লোককে ভ্যাকসিন দিতে হলে ২৬ থেকে ২৭ কোটি ভ্যাকসিন লাগবে। এত ভ্যাকসিন আমরা একসঙ্গে পাব না, রাখতেও পারব না।

জাহিদ মালেক আরও বলেন আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পর্যায়ক্রমে সবাই টিকা পাবেন। তবে টিকা পেতে ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা বিভিন্নভাবে ভ্যাকসিন পাচ্ছি। কোভ্যাক্স থেকে আমরা ভ্যাকসিন পাচ্ছি,  নিজেরাও কিনছি।

সরকারের আর এক মুহুর্ত ক্ষমতা থাকা উচিত নয়ঃ বিএনপি

এদিকে, বিএনপি অভিযোগ করেছে করোনা মোকাবিলায় এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের ব্যবস্থাপনায় করোনার টিকা প্রদানেও নৈরাজ্য চলছে। এ কারণে গোটা জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন অভিযোগ করে  বলেন,  অপরিকল্পিত লকডাউন, অপরিকল্পিত টিকা ব্যবস্থা, মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে অপরিকল্পিত ব্যবস্থা -সব মিলিয়ে এই সরকারের আর এক মুহুর্ত ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। এ সময় মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন,  অবিলম্বে প্রয়জনীয় টিকা সংগ্রহ করে এই করোনা মোকাবিলার জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করে সত্যিকার অর্থেই জনগণের জন্য কাজ করুন।

পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ফের লকডাউন

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ফের বিধিনিষেধ দেয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন,পরিস্থিতির মোকাবেলায় দুটি কৌশলই আমরা অবলম্বন করব। একটা হলো বিধিনিষেধ বা লকডাউন দেয়া। আরেকটি হচ্ছে ছেড়ে দেয়া।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন 

কিন্তু সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। এদিকে, করোনা সংক্রমণ রোধে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা ১৭ মাস ধরে বন্ধ রাখা হলেও পর্যটন কেন্দ্র, বিনোদন কেন্দ্র,  রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার আগামী ১৯ আগস্ট থেকে খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে মোট ধারণ ক্ষমতার শতকরা ৫০ ভাগের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ইতোমধ্যে, গতকাল (১১ আগস্ট) থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করে খুলে দেওয়া হয়েছে  গনপরিবহন, বিপনি বিতান এবং হোটেল-রেস্টুরেন্ট। 

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।