বরিশালে ৫ দিনব্যাপী বিরোধের অবসান, প্রত্যাহার হবে মামলা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i96300-বরিশালে_৫_দিনব্যাপী_বিরোধের_অবসান_প্রত্যাহার_হবে_মামলা
বাংলাদেশের বরিশাল নগরীতে ব্যানার অপসারণ ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে পাঁচ দিন ধরে চলমান বিরোধের অবসান হয়েছে। বরিশাল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের এই ঘটনায় সমঝোতায় পৌঁছেছে বিবদমান পক্ষগুলো।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
আগস্ট ২৩, ২০২১ ০৫:০১ Asia/Dhaka
  • বরিশালে ৫ দিনব্যাপী বিরোধের অবসান, প্রত্যাহার হবে মামলা

বাংলাদেশের বরিশাল নগরীতে ব্যানার অপসারণ ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে পাঁচ দিন ধরে চলমান বিরোধের অবসান হয়েছে। বরিশাল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের এই ঘটনায় সমঝোতায় পৌঁছেছে বিবদমান পক্ষগুলো।

গতকাল (রোববার) রাতে বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম বাদলের বাসভবনে এক বৈঠকে তারা সমঝোতায় আসেন। 

বৈঠকে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ সরকারি কর্মকর্তারা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে, নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান সমঝোতা বৈঠকে ছিলেন না। 

বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশিত ছবিতে পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে দেখা গেছে। 

বৈঠকের পর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা একটা সমাধানের পথে এসেছি। ইনশাআল্লাহ মামলাগুলো প্রত্যাহার হয়ে যাবে।

মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ

 

এর আগে ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি এখন বেশি মাত্রায় নেই, এটি সমাধানের দিকে চলে যাচ্ছে বলে আমি বিশ্বাস করি। 

গত বুধবার রাতে ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে বরিশালে পুলিশ, আনসার ও স্থানীয় ছাত্রলীগ সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, ওই রাতে সদর উপজেলা ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলা চালান স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, শ্রমিক ইউনিয়ন, আওয়ামী লীগ নেতা ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা দায়ের করেন সদর থানার ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান। অন্যটি করেন কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরির্দশক (এসআই) শাহজালাল মল্লিক। দুই মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয় মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে।

এর মধ্যে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ)। বৃহস্পতিবার কার্যনির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবির কথা জানায় তারা। 

সংঘর্ষের ঘটনার পরদিন বরিশালে সেরনিয়াবাত ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু অভিযোগ করেন, ব্যানার অপসারণ করতে গিয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনওর বাধার মুখে পড়েন। ইউএনও দম্ভোক্তিসহ অশোভন আচরণ করেন এবং সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে যান মেয়র। তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন ইউএনও। 

এদিকে, রোববার ইউএনও মুনিবুর রহমান ও কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। বরিশালের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহর আদালতে মামলা দুটির আবেদন করা হয়। 

এর মধ্যে একটি মামলার আবেদন করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন। অপর মামলার আবেদন করেন বিসিসির রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার। দুই মামলাতেই ইউএনও মুনিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলা দুটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।#