জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের মন্তব্য
'ভূমি সমস্যাই আদিবাসীদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম আজ রাজধানীতে অনুষ্ঠিত আদিবাসী অধিকারকর্মীদের সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন, ভূমি সমস্যাই আদিবাসীদের জন্য এখন ‘সবচয়ে বড় সমস্যা’।
তিনি বলেন “ভূমি দখল যেটা আমরা দেখি এটা সত্য, এটা কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই। যে কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে একটি কমিটি করা হয়েছে।”
আদিবাসীদের মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে বুধবার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের জাতীয় সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় কাপেং ফাউন্ডেশন এই সম্মেলনের আয়োজনে করে।
সম্মেলনের স্বাগত বক্তব্যে কাপেং ফাউন্ডেশনের প্রক্প সমন্বয়ক হেলেন তালাং বলেন, “ক্রমাগতভাবে আদিবাসীদের ভূমির অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, গারো পাহাড়, উত্তরবঙ্গ, মধুপুর বনাঞ্চল, গাজীপুর, পটুয়াখালী-বরগুনা সর্বত্রই ভূমি হারাচ্ছে আদিবাসীরা। হত্যা, নারী নির্যাতন, ভূমি দখল, অপমান ও লাঞ্ছনার কারণে আদিবাসীদের দেশান্তরের প্রবণতা বাড়ছে।”
সভায় কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা বলেন, “আদিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে যারা ভূমির অধিকার নিয়ে কাজ করছেন, তারা হয়রানি-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। দখলদারেরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করছে। এসব মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে শেষ পর্যন্ত আপসে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আমরা সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়ালে তারা লড়াইয়ের শক্তি পাবেন।”
আদিবাসীদের নিপীড়নের প্রসঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেন, “কখনোই এটা ভাববেন না যে বেছে বেছে আদিবাসী মেয়েদের ওপর অত্যাচার হয়। আপনারা ধর্ষণের যে ডেটা দিয়েছেন সারা বাংলাদেশের চিত্র তো এর চেয়ে দ্বিগুণ, তিনগুণ আরও বেশি, তাই না? কোনো ধরনের যৌন নিপীড়ন আমরা চাই না। বিশেষ করে বালক শিশুদের ওপর যে যৌন সহিংসতা হয় সেটা ঠেকাতেও কমিশন তৎপর।”
অনুষ্ঠানে নেদ্যারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত আনা ফন লিউয়েন বলেন, তিন মাস আগে বাংলাদেশে এসে তিনি জানলেন, এখানকার ৯০ শতাংশ মানুষ একই নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, ভাষা ও ধর্ম পালন করছে। তারা সবাই বাঙালি, বাংলা ভাষায় কথা বলে এবং তারা মুসলমান।
নেদ্যারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বলেন, “তখনই আমার মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে বাকি ১০ শতাংশের কী খবর? সংখ্যালঘু হিসেবে, আদিবাসী হিসেবে আমরা মনে করি আপনাদের সমর্থন করার আমাদের কারণ রয়েছে। কারণ আমরা মনে করি, আপনাদের পাশে দাঁড়ানো দরকার, আপনাদের শক্তিশালী করা দরকার।”#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।