খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল, বাংলাদেশের সর্বত্র গভীর শোকের ছায়া
https://parstoday.ir/bn/news/event-i155624-খালেদা_জিয়ার_ইন্তেকাল_বাংলাদেশের_সর্বত্র_গভীর_শোকের_ছায়া
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বাংলাদেশের সর্বত্র নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
(last modified 2025-12-30T08:20:48+00:00 )
ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ ০৯:১৬ Asia/Dhaka
  • বেগম খালেদা জিয়া
    বেগম খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বাংলাদেশের সর্বত্র নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

মৃত‍্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার ব‍্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এসময় হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার জ‍্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছেলের বউ ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনী জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ সকল আত্মীয় স্বজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সকল চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ আজ (মঙ্গলবার) সকাল সোয়া ৭টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে জানিয়েছেন, ‘আম্মা আর নেই।’

খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বেগম খালেদা জিয়া

জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল: প্রধান উপদেষ্টা

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

ড. ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার অবদান, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তার প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপোষহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে, মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

বেগম খালেদা জিয়া ও ডা. শফিকুর রহমান

বেগম জিয়াকে আল্লাহ জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে রহম করুন, ক্ষমা করুন এবং তার প্রিয় জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে বেগম জিয়ার জন্য দোয়া করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে রহম করুন, ক্ষমা করুন এবং তার প্রিয় জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।”

খালেদা জিয়া আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়ে আশার আলো ছিলেন: প্রেস সচিব

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবচেয়ে কঠিন সময়ে আশার আলো ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আজ সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সব নেতার মধ্যে সবচেয়ে করুণাময়, প্রতিরোধের প্রতীক এবং সর্বোচ্চ স্তরের একজন দেশপ্রেমিক। তিনি শেষ পর্যন্ত একজন যোদ্ধা হিসেবে দেশের মানুষের পাশে থেকেছেন এবং সবচেয়ে কঠিন সময়ে জাতির জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছিলেন। তার আজীবন সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রকৃত চেতনাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।”

তিনি আরও জানান, “ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অনেকের নায়ক ও অনুপ্রেরণার উৎস। বেগম খালেদা জিয়া শান্তিতে ঘুমান। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতের সবচেয়ে সুন্দর স্থান দান করুন। আপনি চির শান্তিতে ঘুমান।”

৭ দিনের শোক ঘোষণা বিএনপির

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছে তাঁর দল বিএনপি।

আজ (মঙ্গলবার)  সকাল ৯টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির।

তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি সাত দিনব্যাপী বিএনপি শোক পালন করবে। নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় সহ দেশের সকল কার্যালয়ে সাত দিন কালো পতাকা উত্তোলন থাকবে। দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা এই সাত দিনব্যাপী কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। প্রতিটি দলীয় কার্যালয় দেশনেত্রীর জন্য সাতদিন ব্যাপী কোরআন খতম ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলা পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়ে শোক বই খোলা হবে।”

খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুস্থতা ছিল। মুক্তি পাওয়ার পর চলতি বছর ৭ জানুয়ারি লন্ডনে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল।#

পার্সটুডে/এমএআর/৩০