শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিল, বিচার শুরু ১ জুন
https://parstoday.ir/bn/news/event-i159640-শিশু_রামিসাকে_ধর্ষণ_হত্যা_মামলায়_চার্জশিট_দাখিল_বিচার_শুরু_১_জুন
বাংলাদেশের রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
(last modified 2026-05-24T13:27:57+00:00 )
মে ২৪, ২০২৬ ১৯:২৫ Asia/Dhaka
  • রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু ১ জুন
    রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু ১ জুন

বাংলাদেশের রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

আজ (রোববার) বিকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

এর আগে দুপুরে সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করেন।  

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিনই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর জবানবন্দির ভিত্তিতে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও সহযোগী হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংগঠন দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করেছে এবং ডিএনএ পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হওয়ায় পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই বিচারকাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। সরকার এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ঘটনায় পরদিন বুধবার ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ওইদিনই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জবানবন্দিতে জানায় এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৪