‘যথাসময়ে’ শহীদ সর্বোচ্চ নেতার পবিত্র রক্তের প্রতিশোধ নেব: ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160942-যথাসময়ে’_শহীদ_সর্বোচ্চ_নেতার_পবিত্র_রক্তের_প্রতিশোধ_নেব_ইরান
পার্সটুডে: ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, শহীদ সর্বোচ্চ নেতা ও ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের ‘যথাসময়ে’ ‘সৎ শক্তির’ হাতে প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে। এদিকে দেশটি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর জানাজা, দাফন ও শেষ বিদায়ের শোক-অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
(last modified 2026-07-01T14:29:05+00:00 )
জুলাই ০১, ২০২৬ ২০:০১ Asia/Dhaka
  • ইরানের সর্বোচ্চ শহীদ নেতার শেষ বিদায়ের আসন্ন শোক-সমাবেশ অনুষ্ঠানের প্রতীকি ছবি
    ইরানের সর্বোচ্চ শহীদ নেতার শেষ বিদায়ের আসন্ন শোক-সমাবেশ অনুষ্ঠানের প্রতীকি ছবি

পার্সটুডে: ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, শহীদ সর্বোচ্চ নেতা ও ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের ‘যথাসময়ে’ ‘সৎ শক্তির’ হাতে প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে। এদিকে দেশটি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর জানাজা, দাফন ও শেষ বিদায়ের শোক-অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (SNSC) সচিব মোহাম্মদ বাকের জুলকাদর বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “শাহাদাতের আগ মুহূর্তে শহীদ নেতার মুষ্টিবদ্ধ হাত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালার এক স্থায়ী প্রতীক হয়ে থাকবে।”

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)-এর অভিজ্ঞ এই কমান্ডার গত ২৪ মার্চ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তার পূর্বসূরি আলী লারিজানি শহীদ হওয়ার পর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পদে নিয়োগ পান। তিনি আসন্ন শোক-সমাবেশ ও জানাজা অনুষ্ঠানের আগে এই সতর্কবার্তা দেন।

জুলকাদর বলেছেন, “মহান খামেনেয়ী এবং ইরানের নিপীড়িত শহীদদের পবিত্র রক্তের প্রতিশোধের পর্ব এখনও খোলা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং যারা এ অপরাধের নির্দেশ দিয়েছে, তারা সঠিক সময়ে—যা খুব বেশি দেরি নয়—‘সৎ শক্তির’ হাতে ন্যায্য শাস্তির মুখোমুখি হবে।”

আলাদা এক বিবৃতিতে অভিভাবক পরিষদ বা গার্ডিয়ান কাউন্সিল জানিয়েছে, শত্রুপক্ষ ইরানি জাতির মনোবল ভেঙে দেওয়ার ভ্রান্ত আশা নিয়ে এই ‘জঘন্য অপরাধ’ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “কিন্তু তারা জানত না যে,  সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাত নিজেই প্রতিরোধের এক শিখায় পরিণত হবে এবং বিজয়ের পথে পথনির্দেশক হবে।”

গার্ডিয়ান কাউন্সিল শহীদ নেতাকে বিদায় জানানোর আসন্ন শোক-অনুষ্ঠানকে ইসলামি ব্যবস্থার দৃঢ়তার ইতিহাসে একটি “ঐতিহাসিক মোড়” হিসেবে বর্ণনা করেছে। পরিষদ জানিয়েছে, মহান নেতার পবিত্র রক্ত চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত সত্যের পথ আলোকিত করবে এবং দাম্ভিক শক্তির ফ্রন্টকে আরও হতাশ করবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “শত্রুর এই জঘন্য অপরাধের উদ্দেশ্য ছিল এই জাতির মনোবল ভেঙে দেওয়া। কিন্তু নেতার শাহাদাতই প্রতিরোধের শিখা এবং বিজয়ের দিশারিতে পরিণত হয়েছে।”

অভিভাবক পরিষদ ইরানের জনগণকে বিপুল সংখ্যায় শহীদ সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তাদের উপস্থিতি জাতি ও ইসলামি বিপ্লবের মধ্যকার “অবিচ্ছেদ্য বন্ধন” আবারও প্রমাণ করবে।

কাউন্সিলের ভাষায়, “শেষ বিদায় জানানোর এই শোকানুষ্ঠান কেবল একটি শোকানুষ্ঠান নয়।”

পরিষদ আরও বলেছে, “এটি এমন একটি জাতির বিশ্বাস ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ, যারা বহু বছর ধরে সর্বোচ্চ নেতার দিকনির্দেশনায় মর্যাদা ও প্রতিরোধের পথে অটল থেকেছে। এই মহিমান্বিত অনুষ্ঠান দাম্ভিক শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষমতার প্রতীক এবং বিপ্লবের আদর্শের প্রতি আনুগত্য নবায়নের একটি সুযোগ।”

শহীদ নেতার জন্য জাঁকজমকপূর্ণ শেষ-বিদায়ের আহ্বান ইরানের খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের

ইরানের খ্রিস্টান সম্প্রদায় দেশের অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার বাসভবন লক্ষ্য করে পরিচালিত মার্কিন-ইসরায়েলি ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ শহীদ হন।

গার্ডিয়ান কাউন্সিল আরও বলেছে, এই শেষ-বিদায় জানানোর অনুষ্ঠান হবে নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ীর প্রতি “সর্ববৃহৎ গণ-আনুগত্যের অঙ্গীকার”। একই সঙ্গে তারা জাতিকে বিশ্বের উদ্দেশে এই বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানায় যে, “তাদের নেতা ও পথপ্রদর্শকের শাহাদাতের পরও তারা অভিভাবকত্ব, আইন ও জিহাদের পথ থেকে সরে আসবে না।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “ইরানের জনগণ তাদের ব্যাপক উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় সংহতি ও ঐক্য প্রদর্শন করবে। তারা বিশ্বকে এই বার্তা দেবে যে, নেতার শাহাদাত জাতির সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।”

তেহরানে নিজ বাসভবনে মার্কিন-ইসরায়েলি ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ ২৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ-হওয়া আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর লাশের জানাজা ও শেষ বিদায়ের শোক অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে পাঁচ দিনব্যাপী তেহরান, কোম ও মাশহাদে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

গার্ডিয়ান কাউন্সিল “সতর্ক জাতি” এবং “বীর যোদ্ধাদের” প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা শত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং যুদ্ধের শুরু থেকেই শত্রুদের জন্য হতাশা ও নিরাশার কারণ হয়ে উঠেছেন। #
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/০১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।