মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলা তেহরানের নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতার প্রমাণ: নিউইয়র্ক টাইমস
পারসটুডে: পশ্চিম এশিয়া জুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসাত্মক আঘাত তেহরানের নিখুঁত আঘাত হারার ক্ষমতা তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোর ওপর ইরানের হামলায় একাধিক মার্কিন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের বারবার এই দাবি সত্ত্বেও যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল বা ধ্বংস হয়ে গেছে, তেহরান এখনও অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের হামলা দেখিয়েছে যে, সংবেদনশীল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা এখনও ইরানের রয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনার ওপর পরিচালিত এক ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে যে, এসব হামলায় সেনাদের আবাসন, কার্যক্রম পরিচালনার এলাকা, ড্রোন আশ্রয়কেন্দ্র, রাডার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলাগুলোর মধ্যে একটি ছিল জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো আক্রমণ। এতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
মার্কিন এক সামরিক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে জানান, চলতি মাসে জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আরও প্রায় এক ডজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লক্ষ্যবস্তু হওয়া চারটি স্থাপনা—যার মধ্যে মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিও রয়েছে—যুদ্ধের শুরুর দিকেও ইরানের হামলার শিকার হয়েছিল। সে সময় ইরান সাতটি দেশে মার্কিন বাহিনী ব্যবহৃত মোট ১৮টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।#
সূত্র: আল-মানার ওয়েবসাইট