ইরানের বিক্ষোভকে দাঙ্গায় রূপান্তরিত করার জন্য দায়ী আমেরিকা
-
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি
পার্সটুডে-জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি বলেছেন ইরানজুড়ে বিক্ষোভকে দাঙ্গায় রূপান্তরিত করার জন্য আমেরিকা দায়ী।
পার্সটুডে আরও জানায়, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত এবং স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে একটি চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠিতে তিনি ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে দাঙ্গা এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করেছেন।
তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ইহুদিবাদী সরকারের সাথে আমেরিকার সমন্বয়ের নিন্দা জানিয়েছেন। ইরাভানি আরও বলেন: এই হস্তক্ষেপ হুমকি, উস্কানি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংসতা উস্কে দিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন: আমরা জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী এই অস্থিতিশীল পদক্ষেপের নিন্দা জানাই।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও ইতোপূর্বে এক বিবৃতিতে বলেছে, ১২ দিনের যুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী ইসরাইল ইরানি জাতির প্রতি তাদের যুদ্ধ-উদ্দীপনা এবং শত্রুতা ত্যাগ করে নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন: সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের বক্তব্যগুলো ইরানি জাতির জীবনকে অনিরাপদ করার জন্য এই দুই দখলদার দেশের মধ্যে একটি যৌথ পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে: ১২ দিনের যুদ্ধে আজও, ইহুদিবাদী ইসরাইল সম্মিলিত যুদ্ধে ইরানিদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে, কখনও কখনও কৌশল পরিবর্তন করছে, কিন্তু নিরস্ত্র ইরানি জাতির সাথে তার যুদ্ধ-উদ্দীপনা ত্যাগ করে নি। যদিও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বাজারের অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, তবুও ইহুদিবাদী শত্রুরা ওই সুযোগকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দৃষ্টিভঙ্গির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানে অস্থিরতা উস্কে দেওয়া এবং নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ এবং ধ্বংসাত্মক ভূমিকার বিষয়কে সহজেই বোধগম্য। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প বারবার দাঙ্গাবাজদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন এবং হুমকি দিয়ে বলেছেন যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র যদি দাঙ্গাবাজদের প্রতিহত করে তবে তিনি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবেন। মনে হচ্ছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে হুমকি দেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো অস্থিরতা উস্কে দেওয়া এবং অব্যাহত বিক্ষোভ ও সহিংস, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা। নেতানিয়াহু নিজেও বারবার ইরানে অস্থিরতা ও দাঙ্গাবাজদের সমর্থন করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের কাঠামোর মধ্যে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি চাপিয়ে দিয়েছেন। সবচেয়ে কঠোর ওই চাপের মাধ্যমে ইরানি জাতির ওপর কঠোরতম আঘাত হেনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। তারপর ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের সাথে আক্রমণে অংশগ্রহণ করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছেন। তিনি এখন ইরানি নাগরিকদের সমর্থন করার দাবি করছেন।
তার প্রথম এবং দ্বিতীয় মেয়াদে একতরফাভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে জাতীয় মুদ্রার মূল্য তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে, ওষুধ ও মৌলিক পণ্যের অ্যাক্সেস সীমিত হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ ইরানির জীবিকা নির্বাহে সমস্যা বেড়েছে। এমন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকারী কেউ যদি নিজেকে ইরানি জাতির প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করে, তা কীভাবে মেনে নেওয়া যেতে পারে?
বর্তমানে, জাতিসংঘে ইরানি রাষ্ট্রদূতের চিঠিতে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, হুমকি, উস্কানি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংসতাকে উৎসাহিত করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করছেন। একইসাথে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সামরিক হুমকির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও তীব্রতর করেছেন।#
পার্সটুডে/এনএম/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন