ইরানের কঠোর বার্তা: ইসরায়েলের আগ্রাসনে নীরবতা অর্থ অপরাধে উৎসাহ দেয়া
-
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
পার্সটুডে- ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বলেছেন, ‘এই সংস্থার দ্বিতীয় ২৫-বার্ষিক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মূলত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা থেকে একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও উন্নয়ন-ভিত্তিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর।’
পার্সটুডে-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরনার উদ্ধৃতি দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি শুক্রবার কিরগিজস্তানে এসসিও সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে বলেন, বিশ্ব অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সীমাহীন একতরফাবাদের প্রসার, জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিগুলো দুর্বল করা, বেআইনিভাবে বলপ্রয়োগ, একতরফা ও নির্বিচার নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের জন্য অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্রক্রিয়াগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, এসসিওর ২৫ বছর পূর্তির প্রাক্কালে এই সম্মেলন আন্তঃআঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারকরণ, বহুপাক্ষিকবাদ শক্তিশালীকরণ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের জন্য একটি মূল্যবান সুযোগ তৈরি করবে।’
আরাকচি সম্প্রতি মাসগুলোতে আমেরিকার জঘন্য কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে বলেন, ‘আগ্রাসীদের প্রতি যেকোনো রাজনৈতিক, সামরিক এবং গোয়েন্দা সমর্থন এমনকি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নীরবতা বা দ্ব্যর্থক অবস্থানও আইনের শাসনকে দুর্বল করবে এবং অপরাধীদের এই বেআইনি আচরণ পুনরায় করতে উৎসাহিত করবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যা সম্মুখীন হয়েছে, তা শুধুমাত্র একটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিল না; বরং এটি সেই মৌলিক নীতিগুলোর বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল যার ওপর আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত। তাই, এই নীতিগুলোর প্রতিরক্ষা শুধু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা নয়; বরং এটি সম্মিলিত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিরক্ষা।’
আরাকচি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আবারও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সকল সামরিক কার্যক্রম তাৎক্ষণিক বন্ধ, অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তার নির্বিঘ্ন প্রবেশ নিশ্চিতকরণ, ফিলিস্তিনি জনগণের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সমর্থনের ওপর জোর দেয়। অঞ্চলে টেকসই শান্তি অর্জন দখলদারিত্ব শেষ করা এবং ফিলিস্তিনি জাতির বৈধ অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া সম্ভব হবে না।’
আরাকচি জোর দিয়ে বলেন, ‘যে পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক কাঠামো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, একতরফা সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দ্বারা ক্রমশ প্রভাবিত হচ্ছে, সেখানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা স্বাধীন অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক বাণিজ্য বিকাশ এবং সদস্যদের মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনন্য ভূরাজনৈতিক অবস্থানের অধিকারী ইরান মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া এবং উন্মুক্ত জলরাশিকে সংযুক্তকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক এবং এটি এসসিও সদস্য দেশগুলোর কাছে পরিবহন করিডোর, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিজের ব্যাপক সক্ষমতা সরবরাহ করতে প্রস্তুত।’
আরাকচি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই পথে, আরও ঐক্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের অবশ্যই অনুমতি দেয়া উচিত নয় যে আগ্রাসন কূটনীতিকে, বল আইনকে এবং দ্বৈত মান ন্যায়বিচারকে প্রতিস্থাপন করুক। একটি নিরাপদ, অধিক স্থিতিশীল ও ন্যায়বিচারময় ভবিষ্যত তখনই বাস্তবায়িত হতে পারে যখন আমরা সবাই একক কণ্ঠে আইনের শাসন, রাষ্ট্রগুলোর সমতা, দেশগুলোর স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং জাতিসমূহের মর্যাদার পক্ষে সওয়াল করি। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এই ঐতিহাসিক দায়িত্বের অগ্রভাগে থাকতে পারে এবং থাকা উচিত।’#
পার্সটুডে/এমবিএ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।