যুদ্ধের মাশুল: বিশ্ব থেকে বৈজ্ঞানিকভাবেও বিচ্ছিন্ন হচ্ছে ইসরায়েল
https://parstoday.ir/bn/news/world-i162928-যুদ্ধের_মাশুল_বিশ্ব_থেকে_বৈজ্ঞানিকভাবেও_বিচ্ছিন্ন_হচ্ছে_ইসরায়েল
পার্সটুডে: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ক্যালকালিস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা তহবিল থেকে ইসরায়েলের পাওয়া অর্থের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে বিদেশি গবেষকদের ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনাও বেড়েছে।
(last modified 2026-09-08T14:39:38+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬ ২০:২৭ Asia/Dhaka
  • ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

পার্সটুডে: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ক্যালকালিস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা তহবিল থেকে ইসরায়েলের পাওয়া অর্থের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে বিদেশি গবেষকদের ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনাও বেড়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস এবং উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা কমেছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের বৈজ্ঞানিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দেশটির শিক্ষাবিদদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা মহলে ইসরায়েলি শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ইসরায়েলের যুদ্ধনীতি ও মানবিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। অনেক বিদেশি গবেষক ইসরায়েলি গবেষকদের সঙ্গে সহযোগিতায় যেতে চাইছেন না, কারণ তারা মনে করছেন এর সঙ্গে রাজনৈতিক, গণমাধ্যমগত কিংবা নৈতিক ঝুঁকি জড়িয়ে রয়েছে।

‘ক্যালকালিস্ট’-এর তথ্যমতে, ইসরায়েলি গবেষকদের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা প্রত্যাখ্যান বা বাধাগ্রস্ত করার নথিভুক্ত ঘটনা ২০২৫ সালের নভেম্বরের ২০টি থেকে ২০২৬ সালের মে মাসে বেড়ে ৫০টিতে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলের স্যামুয়েল নেমান ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনও নিষেধাজ্ঞা ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রতিবাদের চাপ বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং এর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়ে সতর্ক করেছে।

যুদ্ধ ও এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক অনিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষকদের সহযোগিতা কমে যাওয়ায় ইসরায়েল থেকে মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ, একাডেমিক মেধাবী এবং হাই-টেক খাতের দক্ষ কর্মীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইসরায়েল ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছেন।

ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই মেধা পাচারের প্রভাব তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে দৃশ্যমান নাও হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি মানবসম্পদের মান, পেটেন্ট নিবন্ধন, প্রযুক্তি কোম্পানির বিকাশ এবং দক্ষ জনশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইসরায়েল থেকে আরও বেশি মেধাবী মানুষের অভিবাসনের প্রবণতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমবিএ/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।