আইআরজিসি মুখপাত্র: রমজান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত দুর্বলতা উন্মোচন করেছে
-
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি।
পার্সটুডে — ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র বলেছেন, রমজান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত দুর্বলতা এবং ইরানের শক্তির সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর প্রভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে।
ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানায়, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি মঙ্গলবার এক বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার অনেক যুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় নিজেদের দেশের বাইরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধে জড়িয়ে রাখা হয়েছে, যাতে মার্কিন ভূখণ্ড সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কিন্তু রমজান যুদ্ধে সেই ক্ষতির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও ফিরে গেছে।
তিনি বলেন, এই সক্ষমতার পেছনে ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কুদস ফোর্স, সশস্ত্র বাহিনী এবং আইআরজিসির সামরিক সক্ষমতা—যার মাধ্যমে যুদ্ধের ব্যয় প্রতিপক্ষের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছিল যে ইরান আত্মসমর্পণ না করলে দেশের সব অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এর জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বার্তা ছিল—হুমকির জবাব পাল্টা হুমকি দিয়ে দেওয়া হবে; যুক্তরাষ্ট্র তার হুমকি বাস্তবায়ন করলে ইরানও নিজস্ব হুমকি বাস্তবায়ন করবে।
তিনি রমজান যুদ্ধের আরেকটি ফলাফল হিসেবে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ক্ষয় তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কৌশলগত অস্ত্র উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয়।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল একই সময়ে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ করার ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্রস্থল, রাশিয়া ও চীনের মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্র যেসব অঞ্চলকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে—এসব বিভিন্ন ফ্রন্টে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া ও সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়া ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।