অন্যের নিরাপত্তা কেড়ে নিয়ে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i164020-অন্যের_নিরাপত্তা_কেড়ে_নিয়ে_স্থায়ী_নিরাপত্তা_প্রতিষ্ঠা_সম্ভব_নয়_ইরানের_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, অন্যের নিরাপত্তার বিনিময়ে কোনো রাষ্ট্রই স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিজেদের মধ্যে করতে হবে।
(last modified 2026-10-18T10:58:33+00:00 )
অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১২:২৪ Asia/Dhaka
  • ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি
    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, অন্যের নিরাপত্তার বিনিময়ে কোনো রাষ্ট্রই স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিজেদের মধ্যে করতে হবে।

পার্সটুডে জানিয়েছে, মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার বাগদাদে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আরাকচি এসব কথা বলেন।

ওআইসির লক্ষ্য ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকার

আরাকচি বলেন, মুসলিম উম্মাহর অভিন্ন কণ্ঠস্বর তুলে ধরা, সংহতি ও সহযোগিতা জোরদার করা এবং অভিন্ন স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সংস্থাটির সনদ জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির প্রতিফলন ঘটায়। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং শক্তির হুমকি বা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও কূটনীতির প্রতি ইরান অবিচলভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত দুই বছর ধরে ইরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন, হুমকি, গুপ্তহত্যা ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞার শামিল।

আরাকচির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে শত শত নারী ও শিশু রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে।

ইরানে হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিনাবে ১৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের নিহত হওয়া, লামার্দের একটি ক্রীড়া স্টেডিয়ামে ক্লাস্টার বোমা হামলা, দক্ষিণ ইরানের কেশমে একটি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় বোমাবর্ষণ এবং সিরিকের কুহেস্তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা—এসব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের নথিভুক্ত উদাহরণ।

তিনি বলেন, সত্যকে বিকৃত করে এবং ভুক্তভোগী ও আগ্রাসনকারীর অবস্থান অদলবদল করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এসব অপরাধ আড়াল করতে পারবে না।

হরমুজ প্রণালি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

আরাকচি বলেন, ধ্বংসের হুমকি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই জলপথটি বহু সদস্যরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ ছিল। এরপর থেকে নৌচলাচলে অনিরাপত্তা ও বিঘ্নের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন।

তিনি আরও বলেন, আগের ভুল ও অপরাধের পুনরাবৃত্তি করে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কোনো দেশকে বোমা হামলা, ধ্বংসের হুমকি ও অবরোধের মুখে ফেলে আবার সামুদ্রিক নৌচলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা করা যায় না।

ফিলিস্তিন ও গাজা নিয়ে ইরানের অবস্থান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যু এখনো মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা। ফিলিস্তিন বিশ্ববিবেকের এক গভীর ক্ষত, আর গাজা গণহত্যা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, অসংখ্য প্রস্তাব ও প্রস্তাবনা সত্ত্বেও দখলদারত্ব ও সহিংসতার অবসান ঘটেনি। ফিলিস্তিনিদের অব্যাহত দুর্ভোগ, ইসরায়েলি শাসনের হাতে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি এবং পবিত্র জেরুজালেম ও এর ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর হুমকি সবার উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।

আরাকচি বলেন, ইরান ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন হত্যাকাণ্ড ও অবরোধ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার রক্ষাকে সম্মিলিত অগ্রাধিকারে পরিণত করা হয়। এ লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত ও বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

ইয়েমেন ও সৌদি আরব প্রসঙ্গে ইরানের অবস্থান

আরাকচি বলেন, ইরান ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ঐক্য এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে। ইয়েমেন সংকট সমাধানের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

তাঁর মতে, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, জবরদস্তি, ভীতি প্রদর্শন কিংবা ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বাদ দিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, অঞ্চলের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই। রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করে সামরিক পন্থায় অনড় থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। আরব উপদ্বীপের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং পূর্বসম্মত শান্তির রূপরেখার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ সহজ করতে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

 

পার্স টুডে/এমবিএ/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।