ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সমস্ত ষড়যন্ত্র কার্যত ব্যর্থ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সময় আবারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনো তিনি সঠিক নীতি নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মার্কিন নীতিও এর ব্যতিক্রম নয়। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা তিনটি নীতি নিয়েছে। প্রথমত, শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি থেকে ইরানকে বিরত রেখে পরমাণু সমঝোতাকে ধ্বংস করে দেয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে কোণঠাসা করা। দ্বিতীয়ত, শত্রুর চাপ ও হুমকি মোকাবেলায় ইরানি জাতির প্রতিরক্ষা শক্তিকে দুর্বল করে দেয়া। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে। তৃতীয়ত, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ওষুধ আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের জনগণ সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে এবং দেশটির ইসলামি শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটবে অথবা ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য হবে।
ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এ দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে, অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে, সাদ্দামকে দিয়ে যুদ্ধ বাধিয়ে, সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে এবং আঞ্চলিক শত্রুদেরকে ব্যবহার করে ইরানকে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে যাতে কোনো দিক দিয়েই এ দেশটি সফল হতে না পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আমেরিকা ইরানের সমস্ত নারী,পুরুষ ও শিশুর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে কিন্তু তাদের এটা জেনে রাখা উচিত ইরানিরা কখনই বলদর্পী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তাই তাদের উচিত নিজেদের ব্যর্থ নীতি থেকে সরে আসা এবং পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবযাদে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক নীতির প্রভাব বেশ ক'বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টিকে থাকবে। তিনি বলেন, ইউরোপীয়রা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনের প্রথম দুই বছরে ওয়াশিংটনের ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেবে তা ভেবে পাচ্ছিল না। কিন্তু এখন তারা ট্রাম্পকে পাশ্চাত্যসহ সারা বিশ্বের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন।
প্রায় এক বছর আগে দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছিল, ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে, গত প্রায় এক মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ১৩টি দেশ তিন বার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে যা এই সংস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতোগুলো দেশের বিরোধিতার ঘটনা আমেরিকার জন্য স্পষ্ট বার্তা রয়েছে। আর তা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকা যে শুধু একা হয়ে পড়েছে তাই নয় একইসঙ্গে তাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।