ইরানের বিরুদ্ধে বানোয়াট মার্কিন অভিযোগের প্রতিবাদ জানালেন পাক প্রধানমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i86090-ইরানের_বিরুদ্ধে_বানোয়াট_মার্কিন_অভিযোগের_প্রতিবাদ_জানালেন_পাক_প্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বানোয়াট অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছেন। 
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ১৭, ২০২১ ১৫:৫৮ Asia/Dhaka
  • পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বানোয়াট অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছেন। 

বিদায়ি ট্রাম্প সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সম্প্রতি দাবি করেছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আলকায়দার সঙ্গে ইরানের যোগসাজশ রয়েছে। ইমরান খান বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ কখনও বিশ্বাসযোগ্য নয় ও বিশ্ববাসী এমন অভিযোগ গ্রহণ করবে না। তিনি ওই অভিযোগকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সন্তুষ্টি অর্জনের বিপজ্জনক প্রচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন। পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পম্পেও নিয়ম অনুযায়ী তার মন্ত্রিত্বের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন এবং বর্তমান মার্কিন সরকারের মেয়াদও শেষ হয়ে এসেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াইয়ের বিষয়ে ইরানের অবস্থান সম্পর্কে বিশ্ব জনমত ও জাতিগুলোর ব্যাপক সচেতনতারই প্রকাশ। গত এক দশকে ইরাক ও সিরিয়াসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে আলকায়দা ও দায়েশ বা আইএস-এর মত ভয়ানক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর লড়াইয়ে ইরানের ভূমিকা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের। আর তাই এ অঞ্চলের সরকারগুলো এবং জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি ইসলামী ইরানের কার্যকর ভূমিকার কাছে ঋণী। ইরাক ও সিরিয়ার স্বেচ্ছাসেবী গণ-বাহিনীও সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াইয়ে ইরানের কার্যকর সহায়তা পেয়ে এসেছে।

আর এইসব কারণে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইরানের আন্তরিক লড়াই বিশ্বব্যাপী জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং আলকায়দা সম্পর্কিত মাইক পম্পেও'র ইরান বিরোধী নোংরা প্রচারণা বিশ্ববাসীর কাছে হাস্যকর আষাঢ়ে গল্প হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। বরং বিশ্ববাসীর কাছে এখন স্পষ্ট যে মার্কিন সরকার নিজেই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সবচেয়ে বড় হোতা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো হয় মার্কিন-সৃষ্ট অথবা মার্কিন-মদদপুষ্ট।
 
মার্কিন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সাম্প্রতিক সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হল ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস্‌ ব্রিগেডের প্রধান শহীদ কাসেম সুলায়মানিকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে শহীদ করা। মার্কিন সরকার প্রকাশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছে। অবশ্য এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে মার্কিন সরকারকে সহযোগিতা করেছে ইসরাইলের মোসাদসহ আরও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। যেমন, এখন থেকে প্রায় দুই মাস আগে ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেকেও শহীদ করার ঘটনাও ছিল মার্কিন-ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্রের ফসল। 

উল্লেখ্য মার্কিন সরকার ও তার আঞ্চলিক সহযোগীদের সহায়তায় গড়ে উঠেছে আলকায়দা ও দায়েশ বা আইএস-এর মত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো। তাই ইরানের ওপর সন্ত্রাসের তকমা দেয়ার মার্কিন পদক্ষেপ সাম্রাজ্যবাদী এই সরকারের সন্ত্রাসী চরিত্র বিশ্ববাসীর কাছে আড়াল করতে সক্ষম হবে না।  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।