তেহরান লেবাননের সংকট ও অস্থিতিশীলতা জোরদারের বিরোধী
লেবাননে ইরানি তেল আমদানি: হিজবুল্লাহর হাতে ইসরাইলের আরও একটি পরাজয়
লেবাননে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়ায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দেশটির উদ্দেশে কয়েকটি তেলবাহী কয়েকটি জাহাজ পাঠিয়েছে।
লেবাননের জনপ্রিয় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ গতকাল (বৃহস্পতিবার) পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেয়া এক ভাষণের একাংশে বলেছেন, ইরানের জ্বালানি তেল বহনকারী ট্যাংকারগুলো লেবাননের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
লেবাননে ব্যাপক জ্বালানি সংকট দেখা দেয়ায় সেখানকার অনেক পেট্রোল পাম্প, হাসপাতাল এমনকি রুটি তৈরির দোকানগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস ও তেল সংকটের কারণে লেবাননের জনগণ বার বার বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তেল-সমৃদ্ধ ইরান এ বিষয়ে লেবাননকে সাহায্য করার উদ্যোগ নিলেও সেখানকার কোনো কোনো রাজনৈতিক মহল ও প্রতিরোধ-অক্ষ বিরোধী কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ইরানি তেলের মূল্য পরিশোধের উপায় নিয়ে নানা সন্দেহ তুলে ধরছে। ইহুদিবাদী ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে সাফল্যের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইরানের তেল কেনার বিষয়ে বক্তব্য আসার পর থেকেই এইসব মহল অভিযোগ তুলেছে যে হিজবুল্লাহ অর্থনৈতিক বিষয়েও হস্তক্ষেপ করে লেবাননের সুনাম নষ্ট করছে!
আর এ থেকে বোঝা যায় দেশটির কোনো কোনো মহল দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থের চেয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে।
অবশ্য লেবাননের সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, ইরানি জ্বালানির সব মূল্য পরিশোধ করেছেন দেশটির শিয়া মুসলিম ব্যবসায়ীরা, হিজবুল্লাহ এ ব্যাপারে কোনো অর্থ খরচ করেনি।
লেবাননের পশ্চিমাপন্থী রাজনৈতিক ধারার শীর্ষস্থানীয় নেতা সা'দ হারিরি ও সামির জা'জা প্রকাশ্যেই ইরান থেকে তেল আনার বিরোধিতা করেছেন। এ নিয়ে তিনি টুইটারে একটানা নয়টি পোস্ট দিয়েছেন। ইরানি তেল কেনার উদ্যোগকে তিনি জাহান্নামের দিকে খুব দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। অথচ হারিরি লেবাননের জ্বালানি সংকট কমানোর জন্য এ পর্যন্ত কোনো পথ দেখাতে পারেননি।
আসলে হারিরির এই অবস্থানের কারণ হল তিনি ভয় পাচ্ছেন যে ইরানি তেল আমদানি করায় লেবাননের ক্ষমতার কাঠামোয় হিজবুল্লাহর জনপ্রিয়তা আরও শক্তিশালী হবে। লেবাননের ইসরাইল-বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনের জনপ্রিয়তা বা গণ-ভিত্তি আরও মজবুত হোক এটা যারা চায় না তাদের সঙ্গেই সুর মেলালেন হারিরি।
এদিকে হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, লেবাননের দিকে এগিয়ে আসতে থাকা ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোকে লেবাননের ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে যেসব দেশ এই জাহাজগুলোর ওপর হামলা করতে চায় তাদেরকেও সতর্ক করে দিলেন তিনি। তাঁর দৃষ্টিতে লেবাননের সংকট সমাধান দলীয় ও ব্যক্তিগত নীতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ওদিকে লেবাননে ইরানি তেল পাঠানোর উদ্যোগে ক্ষুব্ধ হয়েছে দখলদার ইসরাইল। ইসরাইলের কোনো কোনো সংবাদ মহল হিজবুল্লাহর এই উদ্যোগকে ইসরাইলের জন্য আরেকটি পরাজয় ও হিজবুল্লাহ'র মহাসচিবের পক্ষ থেকে লেবাননের প্রতিরোধ-ক্ষমতা ও চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা বিস্তৃত করার পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে ইরানের এই পদক্ষেপে বোঝা যাচ্ছে তেহরান লেবাননের সংকট ও অস্থিতিশীলতা জোরদারের বিরোধী। হিজবুল্লাহও এটা বুঝিয়ে দিয়েছে যে লেবাননের কোনো কোনো রাজনৈতিক মহলের ক্ষমতার লড়াইয়ের ফলাফলের অপেক্ষায় না থেকেই দেশটির জনগণের সমস্যা কমানোর উদ্যোগই বেশি যুক্তিযুক্ত। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।